ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

হাটের হাসিল না দিলে কোরবানি হবে?

আব্দুল্লাহ ওয়াহেদ রাফি
প্রকাশিত: ১০:৪৩, ২৩ জুন ২০২৩
হাটের হাসিল না দিলে কোরবানি হবে?
ফাইল ফটো

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বতন্ত্র ইবাদত। পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে কোরবানিদাতা মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করেন। এবং হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও বিশ্ব নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ বাস্তবায়ন করে থাকেন।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরবানি করার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন-  فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ

আরবি উচ্চারণ: ‘ফাসালিল লিরাব্বিকা ওয়ানহার’।

Advertisement

বাংলা অর্থ: ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন’। (সূরা: আল কাউসার, আয়াত: ২)

কোরবানি সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো ইরশাদ করেছেন- لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقۡوَىٰ مِنكُمۡۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمۡ لِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

অর্থ: ‘আল্লাহর কাছে তাদের (কোরবানির পশুর) মাংস এবং রক্ত পৌঁছায় না বরং পৌঁছায় তোমাদের (কোরবানি দাতার) তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন মুহসিনদেরকে’। (সূরা: হজ, আয়াত: ৩৭)

সামর্থ্যবান নারী পুরুষের ওপর কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহের মধ্যে একটি শর্ত হলো হালাল উপার্জন থেকে কোরবানি করতে হবে। কারণ আল্লাহ হারাম কোনোকিছু গ্রহণ করেন না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘বৈধ ও হালাল জীবিকার ইবাদত ছাড়া কোনো প্রকার ইবাদত আল্লাহর নিকট উঠানো হয় না’। (সহিহ বুখারি: ২/৫১১, হাদিস: ১৩৪৪; সহিহ মুসলিম: ২/৭০২, হাদিস: ১০১৪)

সুতরাং কোরবানির পশু কেনার জন্য যে টাকাটি বিক্রেতাকে দেওয়া হবে, সেটা হালাল হলেই কোরবানি শুদ্ধ হবে। এই ইবাদতের সঙ্গে হাটের হাসিলের সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ হাসিল হাট কর্তৃপক্ষের হক। এটি হাটের সুবিধা গ্রহণ করার বিনিময়ে নেওয়া হয়ে থাকে। তাই এটি আদায় করাও জরুরি। যেভাবেই হোক তা হাট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

কেউ যদি এটি আদায় না করে তাহলে সে গুনাহগার হবে। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ 

আরবি উচ্চারণ: ‘ওয়ালা-তা’কূলূআমওয়া-লাকুম বাইনাকুম বিলবা-তিলি’।

অর্থ: ‘আর তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের মাল গ্রাস করো না।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

সুতরাং যারা হাসিল না দিলে কোরবানি হবে না বলে থাকেন, তারা ভুল বলেন। হাসিলের সম্পর্ক বান্দার হকের সঙ্গে। আর কোরবানি হচ্ছে আল্লাহর হক। মুসলিম উম্মাহকে দুই হকই পূরণ করতে হবে।

ইয়া আল্লাহ! মুসলিম উম্মাহকে কোরবানির যাবতীয় মাসয়ালাসহ ইসলামের সব বিধান যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!