বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৬ হিজরি উপলক্ষে ২২ অক্টোবর থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শুরু হচ্ছে ইসলামি বইমেলা। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন আজ এই বইমেলার উদ্বোধন করবেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বরে আয়োজিত এই মেলা চলবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।
এবারের বইমেলা জাতীয় মসজিদের ২ প্রান্তজুড়ে। দক্ষিণ গেটে কিছু স্টল থাকবে এবং পূর্ব গেটের প্রশস্ত চত্বরে বৃহৎ আকারে স্টল বিন্যাস করা হয়েছে। অন্যবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণের বেশি জায়গা নিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবারের মেলায় মোট ১৫১টি স্টল স্থান পেয়েছে। পূর্ব গেটের প্রশস্ত চত্বরে বরাদ্দ পেয়েছে প্রায় ৮৫টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।
.png)
মেলায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিসগ্রন্থসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মৌলিক ও গবেষণামূলক বই পাওয়া যাবে। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলে সব বইয়ে দেওয়া হবে ৩৫ শতাংশ কমিশন।
স্টলের সংখ্যা ও আকার বর্ধিত করার পাশাপাশি নকশায় আনা হয়েছে নান্দনিকতা। প্রকাশকরাও তাদের স্টলগুলোকে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সাজসজ্জায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন আঙ্গিকে ও বৈচিত্র্যময় সাজে সাজানো হচ্ছে এবারের বইমেলা।
মেলাকে নান্দনিক ও উৎসবমুখর করতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। যেমন- নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নান্দনিক ডিজাইনে স্থাপন করা হচ্ছে লেখকমঞ্চ। মেলার নিয়মিত প্রচার কার্যক্রমের জন্য থাকছে তথ্য ও মিডিয়াকেন্দ্র। লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকদের আলাপচারিতা ও বসার জন্য থাকছে বিশেষ স্থান।
অন্যদিকে ২০ দিনব্যাপী ইসলামি বইমেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে নিয়মিত সিরাত, ফিলিস্তিন, জুলাই অভ্যুত্থানসহ নানা বিষয়ে আলোচনা এবং জ্ঞানভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন থাকছে।
শিশু কর্নারকে দৃষ্টিনন্দন অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ দিনে তাদের জন্য থাকছে শিক্ষামূলক আয়োজন। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণের শোভা বাড়বে অনেকটাই। এবারই প্রথম ইসলামি বইমেলা ঘিরে এমন সব আয়োজন দেখা গেল।
নারীদের জন্য বায়তুল মোকাররম মসজিদে আলাদা নামাজের ঘর রয়েছে। বয়স্কদের জন্য হুইলচেয়ার সেবা দেওয়া হবে। মেলায় হাঁটতে হাঁটতে যারা ক্লান্ত হয়ে যাবেন তাদের জন্য থাকবে মসজিদের পূর্ব সায়ানে খানিকটা জিরিয়ে নেওয়ার বন্দোবস্ত। আগের তুলনায় বেশি সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবী মেলার সব আয়োজন সহায়তা ও শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত থাকবে। ছুটির দিন ছাড়া বইমেলা প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
মেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ইফার মেলা কমিটির আহ্বায়ক রাশিদা আক্তার বলেন, আমরা একটি সুন্দর মেলা উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি এ বছর মেলায় অতীতের তুলনায় দর্শনার্থী বাড়বে।