এ বৈদ্যুতিক গাড়িটি তৈরি করেছেন নেদারল্যান্ডসের আইনধোবেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা। এ গাড়ির নামকরণ করা হয়েছে ‘জেম’। গাড়িটি রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে দূষিত বাতাস পরিষ্কার করবে বলে দাবি করেছেন নির্মাতারা।
বিশেষ এক ধরনের ফিল্টার এ গাড়ির ইঞ্জিনে লাগানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, এ গাড়ি বাতাসে যত না কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছাড়বে, ঐ ফিল্টারের সাহায্যে তার চেয়ে বেশি কার্বন-ডাই-অক্সাইড টেনে নেবে। যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের কিছুটা লাগাম টানা সম্ভব বলে মনে করছেন নির্মাতারা।
.png)
এ গাড়ি ৩০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে বিশেষ ফিল্টারের মাধ্যমে বাতাস থেকে টেনে নেয় ২ কিলোগ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইড। যদিও কার্বন-ডাই-অক্সাইড টেনে নেয়ার পরিমাণ সামান্য। তবে এ প্রযুক্তির ১২টি গাড়ি বছরে ৩০ হাজার কিলোমিটার চললে এক বছরে গড় গাছের সমান পরিমাণ শোষণ করতে পারে।
আপাতদৃষ্টিতে এ গাড়ির কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণের ক্ষমতা খুব বেশি নয়। কিন্তু নির্মাতারা বলছেন, যদি ‘জেম’ সবাই ব্যবহার করতে শুরু করেন, আর অন্যান্য গাড়ি যদি সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলেই ঘটতে পারে বিপ্লব। সারাবিশ্বে ১০০ কোটির বেশি প্রাইভেটকার চলে। সব ক্ষেত্রে ‘জেম’ ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণ অনেক কমে আসবে।
আপাতত গাড়িটিকে একটি প্রাথমিক রূপ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে তা আরো উন্নত করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন আইনধোবেন ইউনিভার্সিটির ঐ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ‘জেম’-এ যে ফিল্টার ব্যবহার করা হয়েছে, তার ক্ষমতা ভবিষ্যতে আরো বাড়ানো সম্ভব।
‘জেম’-এর ফিল্টার পুরোপুরি বিষাক্ত গ্যাসে ভর্তি হয়ে গেলে গাড়িতে চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। ফিল্টার ভর্তি হওয়ার আগে এ গাড়ি চালানো যায় ৩২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। তারপর চার্জ দিয়ে ফিল্টার খালি করতে হয়।
আইনধোবেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা জানান, গাড়িটিকে সম্পূর্ণ কার্বন মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এগোচ্ছেন। অর্থাৎ, যখন তাদের এ গাড়ির চাকা ঘুরবে, তখন একটুও বিষাক্ত গ্যাস যাতে না বের হয়, সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন ছাত্ররা।
থ্রি-ডি পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে গাড়িটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ছাত্রদের মতে, ‘জেম’ যেমন টেকসই, তেমন দেখতেও চমৎকার। চার চাকার এ গাড়িটিকে অনেকটা দেখতে স্পোর্টস কারের মতো। জেনেশুনেই সেই রূপ দেওয়া হয়েছে ‘জেম’-কে। এতে দু’জনের বসার জায়গা রয়েছে।
আইনধোবেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী এ গাড়ি তৈরির কাজে অংশ নিয়েছেন। সময় লেগেছে এক বছর। আগামী দিনে ‘জেম’ ঘিরে শিল্প গড়ে উঠতে পারে।