ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ বিজ্ঞান বিস্ময় ]

গ্রিনল্যান্ডের বরফের নিচে বিশাল উপত্যকার সন্ধান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩০, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্রিনল্যান্ডের বরফের নিচে বিশাল উপত্যকার সন্ধান
ছবি নাসা

গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা পুরু বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোথাও কোথাও ৩ কিলোমিটারের বেশি পুরু বরফের নিচে বিস্তৃত বিশাল উপত্যকা নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন নাসার নেতৃত্বাধীন গবেষকরা।

‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় গ্রিনল্যান্ডের বরফের নিচের ভূপ্রকৃতির একটি নতুন মানচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই মানচিত্র গ্রিনল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং ভবিষ্যতে বরফ গলার ধরন বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

Advertisement

উপগ্রহ থেকে বরফের ওপরের সূক্ষ্ম ভাঁজ ও ঢালের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ‘আইস ফ্লো পারটারবেশন অ্যানালাইসিস’ পদ্ধতিতে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডে বরফের বিশাল স্তর জমা হওয়ার অনেক আগেই এসব উপত্যকা তৈরি হয়েছিল।

গবেষকরা মোট ১ হাজার ৯৪৩টি সাবগ্ল্যাসিয়াল বা বরফের নিচের উপত্যকা শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আগে তৈরি করা মানচিত্রে ছিল না। নতুন শনাক্ত উপত্যকাগুলো গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরের দিকে আগের ধারণার তুলনায় আরও কয়েকশ কিলোমিটার বিস্তৃত।

গবেষণায় পশ্চিম-মধ্য গ্রিনল্যান্ডের উপত্যকাগুলো নিয়ে বিশেষ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব উপত্যকা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ ও সরল এবং দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে বিস্তৃত। গবেষকদের মতে, এমন বৈশিষ্ট্য সাধারণত ভূ-টেকটোনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নাসার মেরুবিজ্ঞানী জো ম্যাকগ্রেগর বিষয়টিকে একটি ‘ধাঁধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

উপত্যকাগুলোর মধ্যকার কোণ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা আরও ধারণা করছেন, এগুলো শুধু নদীর পানির ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে তৈরি হয়নি। বরং বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ পানিপ্রবাহও এসব উপত্যকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিজ্ঞানীদের আশা, বরফের তলদেশের এই বিস্তারিত মানচিত্র ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে গেলে এর অভ্যন্তরীণ ভূপ্রকৃতি কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে এবং বরফ গলার গতি কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তা পূর্বাভাস দিতে এই তথ্য কাজে আসতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!