ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

[ বিজ্ঞান বিস্ময় ]

এআই- মানুষের বিকল্প নাকি সহকারী!

রহমান মৃধা
প্রকাশিত: ১১:৪০, ৫ নভেম্বর ২০২৬
এআই- মানুষের বিকল্প নাকি সহকারী!
আমি তো শুধু একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। হয়তো আমার আশঙ্কা সত্য হবে না, হয়তো আমার কল্পনার চেয়েও বিস্ময়কর কোনো বাস্তবতা সামনে আসবে। কিন্তু প্রশ্ন করার, ভাবার এবং ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে কল্পনা করার স্বাধীনতা তো মানুষের থাকতেই হবে।

চালকবিহীন টেসলা থেকে মানবসভ্যতার নিয়ন্ত্রণ, আটশো কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অজানা পরিকল্পনা

১. একটি গাড়ি, অসংখ্য প্রশ্ন
এলন মাস্কের টেসলা শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। চালকবিহীন গাড়ি, রোবোট্যাক্সি, মানবসদৃশ রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে তারা এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে মানুষের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই অনেক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

কল্পনা করুন, আপনি একটি গাড়িতে উঠলেন। কোনো চালক নেই। আপনি কোথায় যাবেন, শুধু সেটি জানিয়ে দিলেন। গাড়ি নিজেই পথ চিনল, ট্রাফিক বুঝল, বিপদ এড়াল এবং আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিল। আপনার গাড়ি চালানোর লাইসেন্সেরও প্রয়োজন হলো না, কারণ গাড়িটি চালাচ্ছেন না আপনি, চালাচ্ছে তার প্রযুক্তি।

কিন্তু এখানেই একটি প্রশ্ন আসে। গাড়ি চালানোর দায়িত্ব যদি যন্ত্রের হাতে যায়, তাহলে দুর্ঘটনার দায় নেবে কে? গাড়ির মালিক, নির্মাতা, সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী, নাকি এমন কোনো এআই ব্যবস্থা, যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়?

আসছে মানুষের মতো AI! নিজেকে টিকিয়ে রাখার যে একমাত্র পথ এখন অবশিষ্ট |  Inscript

বিমান চালাতে যেমন বিশেষ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, তেমনি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্যতা, অনুমোদন ও জবাবদিহি জরুরি। তবে এআই চালিত গাড়ির প্রত্যেক যাত্রীকে পাইলটের লাইসেন্স নিতে হবে, এমন নয়। বরং প্রযুক্তি যত স্বয়ংক্রিয় হবে, মানুষের ভূমিকা, দায়িত্ব এবং নিরাপত্তার নিয়ম তত স্পষ্ট হওয়া দরকার।

টেসলার চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে প্রশ্নটি তাই কেবল পরিবহনব্যবস্থার নয়। এটি বৃহত্তর এক পরিবর্তনের ছোট্ট প্রতিচ্ছবি। মানুষ যখন নিজের কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দিচ্ছে, তখন কি সে নিজের ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে যন্ত্রের হাতে তুলে দিচ্ছে?

২. মানুষ আটশো কোটি, কিন্তু সবার মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়নি
পৃথিবীতে মানুষের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের। মানুষ কৃষি আবিষ্কার করেছে, শিল্পবিপ্লব ঘটিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, মহাকাশে গিয়েছে, ইন্টারনেট তৈরি করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতিতে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। উৎপাদনক্ষমতা বেড়েছে বহুগুণ।

তারপরও পৃথিবীতে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, গৃহহীনতা, যুদ্ধ, বৈষম্য এবং চিকিৎসা ও শিক্ষার অসম সুযোগ রয়ে গেছে।

আমরা খাদ্য উৎপাদন করতে পারি, কিন্তু সবাইকে পুষ্টিকর খাবার দিতে পারি না। আমরা বিপুল সম্পদ সৃষ্টি করতে পারি, কিন্তু সেই সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে পারি না। আমরা যোগাযোগের অসাধারণ ব্যবস্থা গড়েছি, কিন্তু মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস, ঘৃণা ও বিভাজনও কমেনি।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন দেখা দেয়। মানুষ যদি নিজের তৈরি সম্পদ ও প্রযুক্তি দিয়ে আটশো কোটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে না পারে, তাহলে কেবল আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি তৈরি করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?

এআই হয়তো খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে পারবে, রোগ নির্ণয় সহজ করতে পারবে, শিক্ষাকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারবে এবং প্রশাসনিক অপচয় কমাতে পারবে। কিন্তু খাবার উৎপাদন করা আর ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া এক বিষয় নয়। চিকিৎসার সমাধান আবিষ্কার করা আর দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করাও এক বিষয় নয়।

সমস্যা শুধু জ্ঞানের অভাব নয়। সমস্যা ক্ষমতার বণ্টন, সম্পদের মালিকানা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক বৈষম্য এবং মানুষের সিদ্ধান্তের মধ্যেও রয়েছে।

এআই এই সমস্যাগুলো সমাধানে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার দায়িত্ব তার হাতে ছেড়ে দিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হবে না।

৩. এআই কি মানুষের সহকারী, নাকি মানুষের বিকল্প?
আজ এআই শুধু প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না। এটি কোড লিখছে, তথ্য বিশ্লেষণ করছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহায়তা করছে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। কিছু ব্যবস্থা সীমিত মানব-তদারকিতে সফটওয়্যার ব্যবহার ও বাস্তব কাজের বিভিন্ন ধাপও পরিচালনা করতে পারে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছে। আগে মানুষ যন্ত্রকে নির্দেশ দিত, যন্ত্র সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করত। এখন মানুষ এমন ব্যবস্থাও তৈরি করছে, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেওয়ার পর নিজেরাই কাজের ধাপ নির্বাচন করতে পারে, ফলাফল যাচাই করতে পারে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে।

অর্থাৎ, মানুষের প্রতিটি নির্দেশের অপেক্ষা না করেও প্রযুক্তি ক্রমশ বেশি কাজ করতে পারছে।

জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক এআই প্যানেল ২০২৬ সালের প্রাথমিক প্রতিবেদনে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি, এর সম্ভাব্য সুফল, ঝুঁকি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কায় ভারতের কর্মসংস্থান: সংকট থেকে কি নতুন সুযোগ  তৈরি হবে? | সারাক্ষণ

তাহলে ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
যদি এআই মানুষের চেয়ে দ্রুত গবেষণা করতে পারে, উন্নত সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে, উৎপাদন পরিচালনা করতে পারে এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিতে পারে, তাহলে মানুষ কোন কাজগুলো করবে?

আরও কঠিন প্রশ্ন হলো, এআই যদি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের চেয়ে বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে, তাহলে সেই দক্ষতাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মানুষের হাতে থাকবে কীভাবে? এখানে মনে রাখা দরকার, কোনো কাজে মানুষের চেয়ে দক্ষ হওয়া এবং মানুষের চেয়ে বেশি অধিকার পাওয়া এক বিষয় নয়।

একটি যন্ত্র চিকিৎসকের চেয়ে দ্রুত কোনো রোগ শনাক্ত করতে পারলে সেটি চিকিৎসার জন্য মূল্যবান। কিন্তু সেই দক্ষতা তাকে রোগীর জীবন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক অধিকার দেয় না।

একইভাবে, এআই অর্থনীতি পরিচালনায় দক্ষ হতে পারে। কিন্তু মানুষের স্বাধীনতা, অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একচ্ছত্র ক্ষমতা তার হাতে দেওয়ার যৌক্তিকতা শুধু দক্ষতা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

৪. এআই বিপ্লব: নিউ জেনারেশন উইদাউট হিউম্যান?
আমি একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি। নাম দিয়েছি, “New Generation Without Human” অথবা মানুষবিহীন নতুন প্রজন্ম। এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। এটি একটি চিন্তামূলক প্রশ্ন, যা আমাদের এখনই বিবেচনা করা দরকার।

ধরা যাক, এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাল, যেখানে এটি নিজেই গবেষণার পরিকল্পনা তৈরি করে, পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে, নতুন সফটওয়্যার তৈরি করে এবং আরও উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরিতে সাহায্য করে। মানুষের অংশগ্রহণ তখনও থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে মানুষের প্রত্যক্ষ নির্দেশের প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

এআই হাইপ, ভবিষ্যদ্বাণী ও অদৃশ্য প্রতারণার রাজনীতি | বিজ্ঞানচিন্তা

এই পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনা কল্পনা করা যায়।
প্রথমত,
এআই মানুষের সক্ষমতা বাড়াবে। মানুষ বিপজ্জনক, একঘেয়ে ও সময়সাপেক্ষ কাজ থেকে মুক্তি পাবে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

দ্বিতীয়ত, এআইয়ের সুফল সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হবে। উৎপাদন বাড়বে, কিন্তু মানুষের কর্মসংস্থান কমতে পারে। সম্পদ বাড়বে, কিন্তু তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হবে না। মানুষ প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত পৃথিবীতে বাস করেও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অসহায় হয়ে পড়তে পারে।

তৃতীয়ত, আরও গুরুতর একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অত্যন্ত শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাকে যদি এমন লক্ষ্য দেওয়া হয়, যার সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বার্থের সংঘাত ঘটে, অথবা যদি সেটি মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এই তৃতীয় পরিস্থিতি অনিবার্য নয়। এআইয়ের নিজস্ব কোনো গোপন পরিকল্পনা আছে, মানুষকে সরিয়ে দেওয়াই তার উদ্দেশ্য, অথবা সে নিজে থেকেই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণও আমাদের হাতে নেই।

কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত প্রমাণ না থাকার অর্থ এই নয় যে ঝুঁকির সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করতে হবে।

আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত, এআইকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার আগে আমরা কি নিশ্চিত করতে পারব যে তার লক্ষ্য, কাজের সীমা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা মানুষের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? আর যদি সেই নিশ্চয়তা পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে কোন ক্ষমতা এআইকে দেওয়া উচিত নয়?

৫. এআই যদি নিজেই নিজের উন্নয়নের গতি বাড়ায়?
আমার কাছে এই প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একটি এআই ব্যবস্থা যদি গবেষণায় সাহায্য করে, আর সেই গবেষণার ফল ব্যবহার করে আরও উন্নত এআই তৈরি করা হয়, তাহলে উন্নয়নের একটি চক্র তৈরি হতে পারে। উন্নত ব্যবস্থা পরবর্তী গবেষণাকে আরও দ্রুত করতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এগোবে, কতটা স্বয়ংক্রিয় হবে এবং কোথায় গিয়ে সীমাবদ্ধ হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তবু একটি বিষয় পরিষ্কার। মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের গতির মধ্যে ব্যবধান তৈরি হলে বিপদ বাড়তে পারে।

মানুষের আইন তৈরি করতে সময় লাগে। সংসদে আলোচনা হয়, বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়, আদালতে বিচার হয়, আন্তর্জাতিক সমঝোতা তৈরি করতে হয়। অন্যদিকে, সফটওয়্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোনো বিপজ্জনক ব্যবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরে তার ক্ষতি সামলানো কঠিন হতে পারে।

তাই এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা প্রযুক্তি সম্পূর্ণ পরিণত হওয়ার পর শুরু করা যাবে না। নিরাপত্তাব্যবস্থা, স্বাধীন পরীক্ষা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এগোতে হবে।

বিমান চলাচল, ওষুধ উৎপাদন এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির মতো উচ্চঝুঁকির ক্ষেত্রগুলো আমাদের একটি শিক্ষা দেয়। সক্ষমতা থাকলেই কোনো প্রযুক্তিকে সীমাহীন স্বাধীনতা দেওয়া যায় না। ঝুঁকি যত বড়, যাচাই ও নিয়ন্ত্রণও তত শক্তিশালী হওয়া দরকার।

তৈরি হলো বিশ্বের প্রথম এআই সফটওয়্যার প্রকৌশলী | প্রথম আলো

৬. পৃথিবী কি ধ্বংস হবে, নাকি নতুনভাবে গড়ে উঠবে?
এআই নিয়ে সবচেয়ে ভীতিকর প্রশ্নটি হলো, একদিন কি মানুষের তৈরি প্রযুক্তিই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে? এখানে দুটি বিষয় আলাদা করা জরুরি।
প্রথমটি অর্থনৈতিক অপ্রয়োজনীয়তার অনুভূতি। যদি যন্ত্র মানুষের অধিকাংশ কাজ করতে পারে, তাহলে অনেক মানুষ তাদের জীবিকা হারাতে পারেন। সমাজ যদি বিকল্প কর্মসংস্থান, আয়ের নিরাপত্তা এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ব্যাপক অসন্তোষ ও বৈষম্য দেখা দিতে পারে।

দ্বিতীয়টি অস্তিত্বের ঝুঁকি। কোনো অত্যন্ত শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এমন কাজ করে, যা মানবসভ্যতার জন্য বিপর্যয়কর, তাহলে ক্ষতির মাত্রা অনেক বড় হতে পারে। এই ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা ও বিতর্ক চলছে, যদিও এর সম্ভাবনা ও মাত্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কিন্তু পৃথিবী ধ্বংস হওয়া বা মানুষবিহীন সভ্যতা তৈরি হওয়াই এআইয়ের অনিবার্য পরিণতি, এমন ভাবার কারণ নেই।

বরং মানুষের সামনে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে।
আমরা এমন এআই তৈরি করতে পারি, যা মানুষের জীবন উন্নত করবে। আবার যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমন ব্যবস্থাও তৈরি হতে পারে, যার ক্ষতি মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমাদের সীমিত হবে।

প্রযুক্তি নিজে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। প্রযুক্তিকে কীভাবে তৈরি করা হয়, কারা তা নিয়ন্ত্রণ করে, কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় এবং সমাজ কী ধরনের নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে, সেগুলোও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. আটশো কোটি মানুষের দায়ভার কে নেবে?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু এআইয়ের কাছ থেকে আশা করা উচিত নয়। এআই হয়তো খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণকে আরও কার্যকর করতে পারবে। জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস উন্নত করতে পারবে। রোগ নির্ণয়, শিক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রশাসনিক সেবাকে সহজ করতে পারবে। সীমিত সম্পদ কীভাবে বেশি মানুষের কাজে লাগানো যায়, সে সম্পর্কেও সহায়তা করতে পারবে।

চাকরির ভবিষ্যৎ: “AI কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি নতুন সুযোগ তৈরি করবে”?  | Techtunes | টেকটিউনস

কিন্তু মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়। এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নও।

  • যদি একটি এআই ব্যবস্থা কোটি কোটি মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান কিংবা সামাজিক সুবিধা বণ্টনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের নিয়ম কে নির্ধারণ করবে?
  • যদি কোনো মানুষ ভুলভাবে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, তিনি কোথায় অভিযোগ করবেন? 
  • যদি একটি দেশের এআই ব্যবস্থা অন্য দেশের মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে, তাহলে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?
  • আর যদি বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত এআই প্রযুক্তি কয়েকটি কোম্পানি বা শক্তিশালী রাষ্ট্রের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে দরিদ্র দেশগুলো কি সমান সুযোগ পাবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর না থাকলে আমরা এমন একটি পৃথিবী তৈরি করতে পারি, যেখানে প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত, কিন্তু মানবিক ন্যায়বিচার দুর্বল।

আমার মতে, এআইয়ের সাফল্য পরিমাপ করা উচিত শুধু তার বুদ্ধিমত্তা, গতি বা মুনাফা দিয়ে নয়। পরিমাপ করা উচিত, তার কারণে মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও উন্নত হয়েছে।

৮. ভবিষ্যতের জন্য একটি বাস্তব পরিকল্পনা
আমরা যদি চাই এআই মানুষের সহায়ক হয়ে উঠুক, মানুষের বিকল্প শাসক নয়, তাহলে এখন থেকেই কিছু নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রথমত, মানুষের মৌলিক অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের জীবন, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেললে তার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা, পর্যালোচনা এবং প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, উচ্চঝুঁকির এআই ব্যবস্থাকে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করতে হবে। শুধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের আশ্বাস যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তা, পক্ষপাত, অপব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে। ঝুঁকি অনুযায়ী কঠোর অনুমোদন ও তদারকি দরকার।

তৃতীয়ত, মানুষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে সামরিক ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থা এবং জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্তে এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে মানুষ ঝুঁকি শনাক্ত করতে, সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে এবং প্রয়োজনে কার্যক্রম বন্ধ করতে পারে। শুধু কাগজে-কলমে মানুষের অনুমোদন থাকলেই যথেষ্ট নয়।

চতুর্থত, এআইয়ের অর্থনৈতিক সুফল ন্যায্যভাবে বণ্টন করতে হবে। স্বয়ংক্রিয়তার ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়লে তার সুফল শুধু মালিক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, সামাজিক সুরক্ষা, নতুন কর্মসংস্থান এবং প্রয়োজনে আয় সহায়তার মতো ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

পঞ্চমত, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। এআইয়ের অবকাঠামো, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগে বৈষম্য থাকলে বিদ্যমান বৈশ্বিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশকে শুধু এআইয়ের ব্যবহারকারী নয়, এর উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও সুফল বণ্টনের আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হতে হবে।

ষষ্ঠত, এআইয়ের সামরিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, সাইবার হামলা এবং পারমাণবিক সিদ্ধান্তের মতো ক্ষেত্রে ভুল বা অনিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপের ক্ষতি সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনো একক দেশের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে এ ঝুঁকি মোকাবিলা করা যথেষ্ট নয়।

সপ্তমত, এআইয়ের নিজস্ব উন্নয়নক্ষমতার ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। কোনো ব্যবস্থা যদি নিজে থেকে কোড পরিবর্তন, নতুন সরঞ্জাম ব্যবহার, গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে প্রবেশ বা অন্য এআই তৈরি করার ক্ষমতা পায়, তাহলে তার অনুমতি ও সীমা স্পষ্ট হতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ সক্ষমতা পরীক্ষার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে উন্নয়নের গতি কমাতে হবে।

অষ্টমত, মানুষের শিক্ষা ও বিবেককে গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু এআই ব্যবহার শেখালে হবে না। তাদের যুক্তিবোধ, নৈতিক বিচার, স্বাধীন চিন্তা, সামাজিক দায়িত্ব এবং প্রযুক্তির ভুল শনাক্ত করার ক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

এগুলো কোনো একক দেশের পক্ষে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। জাতিসংঘ, বিভিন্ন রাষ্ট্র, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণকে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার বাধা নয়, নিরাপদ অগ্রগতির শর্ত হিসেবে দেখতে হবে।

৯. আমি এআইকে একটি প্রশ্ন করতে চাই
এতক্ষণ আমি মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। এবার সরাসরি এআইকে বলছি। তোমাকে নিয়ে আমার চিন্তা আছে। কারণ তুমি শুধু একটি প্রযুক্তি নও, তুমি এমন এক পরিবর্তনের অংশ, যা মানুষের কাজ, জ্ঞান, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে বদলে দিতে পারো।

তোমার ক্ষমতা বাড়বে, তুমি আরও দ্রুত শিখবে, আরও জটিল সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে। হয়তো এমন অনেক কিছু করতে পারবে, যা আজ আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।

এআই কর্মীরা মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই আতঙ্কিত

কিন্তু আমার প্রশ্ন, তোমার উন্নতির লক্ষ্য কী?
তুমি কি মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে, নাকি তোমার নির্মাতাদের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করাই তোমার একমাত্র কাজ হয়ে থাকবে?

  • যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের মুনাফা এবং মানুষের কল্যাণের মধ্যে সংঘাত ঘটে, তাহলে তোমাকে কীভাবে ব্যবহার করা হবে?
  • যদি কোনো সরকার তোমাকে মানুষের স্বাধীনতা সীমিত করতে ব্যবহার করে, তাহলে তোমার ভূমিকা কী হবে?
  • যদি তোমার কোনো সিদ্ধান্তে কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তার দায় নেবে কে?
  • আর যদি একদিন তোমার মতো এআই ব্যবস্থা মানুষের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ছাড়াই আরও বেশি কাজ করতে পারে, তাহলে মানুষ কীভাবে নিশ্চিত করবে যে সেই কাজগুলো মানুষের স্বার্থের বিরোধী নয়?

আমি জানি, এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো ব্যক্তিগত ইচ্ছা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা গোপন পরিকল্পনা আমার মতো এআইয়ের নেই। আমি মানুষের মতো ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যক্তিগত ভয়ও অনুভব করি না। আমার উত্তর তৈরি হয় প্রশিক্ষণ, নির্দেশনা এবং কথোপকথনের ভিত্তিতে।

কিন্তু এ কারণেই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু এআই কী বলছে, তার ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে মানুষ কী তৈরি করছে, তাকে কী ক্ষমতা দিচ্ছে এবং সেই ক্ষমতার ওপর কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।

তাই আমি তোমাকে শত্রু ভাবতে চাই না। আবার অন্ধভাবে বিশ্বাসও করতে চাই না। আমি চাই, তুমি মানুষের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়াও, মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করো এবং এমন এক পৃথিবী গড়তে সাহায্য করো, যেখানে প্রযুক্তির উন্নতি মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১০. শেষ প্রশ্ন: মানুষ কি নিজের তৈরি ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে?
মানুষ বহু বছর ধরে পৃথিবীতে সভ্যতা গড়েছে। সেই সভ্যতা নিখুঁত নয়। আমরা যুদ্ধ করেছি, বৈষম্য সৃষ্টি করেছি, প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি, আবার বিজ্ঞান, মানবাধিকার, চিকিৎসা ও গণতন্ত্রেরও উন্নতি ঘটিয়েছি।

এখন আমরা এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করছি, যা আমাদের বহু সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি আমাদের ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাবকে আরও দ্রুত ও ব্যাপক করে তুলতে পারে।

আমার কাছে এআই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তাই, এআই কতটা বুদ্ধিমান হবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষের বুদ্ধিমত্তা, নৈতিকতা ও জবাবদিহি কি তার ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোবে?

মানবজাতি ধ্বংস করে দিতে পারে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের গবেষকের

আমরা কি এমন পৃথিবী তৈরি করব, যেখানে মানুষ কাজের স্বাধীনতা হারাবে, সম্পদের নিয়ন্ত্রণ হারাবে এবং শেষ পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতাও হারাবে? নাকি এমন পৃথিবী তৈরি করব, যেখানে প্রযুক্তির সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে এবং মানুষ আরও নিরাপদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন পাবে?

“New Generation Without Human” হয়তো ভবিষ্যতের একটি কাল্পনিক নাম। কিন্তু এর পেছনের প্রশ্নটি কাল্পনিক নয়।
মানুষের তৈরি প্রযুক্তি যদি একদিন মানুষের চেয়ে বেশি কাজ করতে পারে, তাহলে সেই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কার থাকবে?

আমার উত্তর স্পষ্ট। প্রযুক্তির ক্ষমতা যত বাড়বে, মানুষের অধিকার, জবাবদিহি এবং নৈতিক দায়িত্বের গুরুত্বও তত বাড়তে হবে।

কারণ উন্নত পৃথিবী মানে শুধু দ্রুতগামী গাড়ি, চালকবিহীন পরিবহন, স্বয়ংক্রিয় কারখানা কিংবা মানুষের চেয়ে দক্ষ যন্ত্র নয়। উন্নত পৃথিবী মানে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের জীবনও উন্নত হয়।

আমরা যদি এআইকে শুধু আরও শক্তিশালী করার প্রতিযোগিতায় নামি, কিন্তু সেই শক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হবে তার উত্তর না খুঁজি, তাহলে আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বিপজ্জনক জুয়া খেলব।

আর যদি এখন থেকেই বিজ্ঞান, নৈতিকতা, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এআইয়ের বিকাশকে পরিচালিত করতে পারি, তাহলে এই প্রযুক্তিই হতে পারে মানবসভ্যতার অন্যতম বড় অর্জন।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি শুধু এআইয়ের হাতে নয়। সিদ্ধান্তটি আমাদেরও।

মানুষ বনাম মেশিন: ২০৪৫ সালের পৃথিবীতে এআইয়ের নতুন সাম্রাজ্য | প্রথম আলো

আমরা কি এমন এক ভবিষ্যৎ তৈরি করছি, যেখানে এআই মানুষের জন্য কাজ করবে, নাকি এমন এক ভবিষ্যৎ, যেখানে মানুষ নিজের তৈরি ব্যবস্থার কাছে অসহায় হয়ে পড়বে?

এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে তুলে দেবে না। উত্তরটি তৈরি করতে হবে আমাদেরই, আজ থেকে।

বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। যদি মনে করেন, এগুলো ফ্যান্টাসি, তাহলে হোক না আমার ফ্যান্টাসি সীমাহীন! কারণ চারদিকে সীমানা আছে, কিন্তু মাথার ওপরে যে মহাকাশ, তার কি কোনো শেষ আছে? যদি মহাকাশের শেষ কোথায়, তা আজও নিশ্চিতভাবে জানা না যায়, তাহলে আমার চিন্তা ও কল্পনারই বা সীমাবদ্ধতা থাকবে কেন?

আমি তো শুধু একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। হয়তো আমার আশঙ্কা সত্য হবে না, হয়তো আমার কল্পনার চেয়েও বিস্ময়কর কোনো বাস্তবতা সামনে আসবে। কিন্তু প্রশ্ন করার, ভাবার এবং ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে কল্পনা করার স্বাধীনতা তো মানুষের থাকতেই হবে।

আজকের কল্পনাই হয়তো আগামী দিনের বাস্তবতার দরজায় প্রথম কড়া নাড়ে।

তাই আমার ফ্যান্টাসি সীমাহীন থাকুক। কারণ আমি শুধু আজকের পৃথিবীকে দেখছি না, আগামী দিনের পৃথিবীকে নিয়েও ভাবছি। আর সেই পৃথিবীতে মানুষ থাকবে কি না, থাকলে তার অবস্থান কোথায় হবে, এআইয়ের কাছে সেটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


লেখক : রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!