ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সোশ্যাল মিডিয়ায় ]

আজিমের মৃত্যুর পর আরএস ফাহিমের বর্ণনা, যা বলছে পুলিশ

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:৩৭, ৮ জুন ২০২৪
আজিমের মৃত্যুর পর আরএস ফাহিমের বর্ণনা, যা বলছে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিজের ওপর জিপ গাড়ির ওপরের ঢাকনা সরিয়ে ভিডিও করছিলেন যুবক রবিউল আজিম তনু। হঠাৎ ব্রিজের বারের সঙ্গে মাথার পেছনে ধাক্কা লাগে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার ভোরে সিরাজগঞ্জ শহরের ইলিয়ট ব্রিজে দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় আজিমের। এরপর বিকাল ৫টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন আরএস ফাহিম চৌধুরী।

Advertisement

আরএস ফাহিম চৌধুরীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

‘‘শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আজিম দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছে। কীভাবে বর্ণনা করব কিছুই বুঝতে পারতেছি না। বার বার মনে হচ্ছে সব কিছু কেমন জানি একটি দুঃস্বপ্নের মতো। কিন্তু কীভাবে নিজেকে বুঝাবো যে ভাইটি আর নেই। চোখের সামনে সব দেখেছি ভাই যা কোনোদিন ও বুঝাতে পারব না।

আরো পড়ুন: আরএস ফাহিমের ভ্লগ ভিডিও করাই কাল হলো যুবকের

আমরা ঠিক ফজরের আজানের সময় সিরাজগঞ্জ কড্ডার মোড়ে পৌঁছাই, সেখান থেকে হালকা কিছু খাবার খাই সবাই মিলে, এরপর আমরা ক্রস বাঁধ ৩ এ যাই সেখান এ আজিম তার মতো করে শুট নিতে ব্যস্ত ছিল ভ্লগ এর জন্য তারপর কিছু সময় কাটাই সেখানে এর পর আমরা রওনা হই হোটেল এ যাওয়ার উদ্দেশে। যাওয়ার পথে সে সামনের একটি গাড়ি তে উঠে সানরুফ দিয়ে বের হয়ে শুট নিচ্ছিল। এর মধ্যে এসএস রোড দিয়ে বড়পোল পার হওয়ার সময় উপরে থাকা লোহার যে বারটি রয়েছে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে মাথায় এবং বুকে সজোরে আঘাত হানে। উল্টো হয়ে ফিরে থাকার কারণে সে ও বুঝতে পারেনি।

যার কারণে আঘাতটা সরাসরি তার মাথার পেছন দিকে লাগে। মাথার পিছে আঘাত লাগার ফলে তৎক্ষণাৎ সে সেখানে গাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ ২-৩ মিনিটের মধ্যে আমরা সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল পৌঁছাই সেখানে নেয়ার আগেই আমাদের ভাই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেছে। তার জন্য কিছু করার সুযোগটাও পাই নাই। চোখের পলকে সব শেষ হয়ে গেলো। চিরদিন দায়ী থেকে যাব। ২ মাস আগে ও বাবা হারা হয়েছে এই ছেলেটির চলে যাওয়া তার মাকে জানানোর মতো কষ্ট কখনও বুঝাতে পারব না।

দূর থেকে অনেকে অনেক মতামতই করবে কিন্তু সব নিজ চোখের সামনে হয়েছে। ১০০০ কথা লিখেও কাউকে বুঝাতে পারব না। আমরা সকাল থেকে হাসপাতাল এবং প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম শেষ করে লাশ নিয়ে এখন সাতক্ষীরার পথে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন এবং ওর আত্মার মাগফেরাত কামনা করবেন।’’

কী বলছে পুলিশ?

এদিকে রবিউল আজিম তনুর মৃত্যুর বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জ শহরের এসএস রোডে একটি রেস্টুরেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সিরাজগঞ্জ আসেন আরএস ফাহিম চৌধুরী ও তার সঙ্গীরা। ভোরে ফাহিম চৌধুরীর ক্যামেরাম্যান রবিউল আজিম তনু একটি ছাদখোলা জিপে শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের ভিডিও সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় রেস্টুরেন্টটির মালিক মঈন উদ্দিন তার সঙ্গে ছিলেন।

ওসি আরও জানান, এসএস রোড প্রান্ত দিয়ে ইলিয়ট ব্রিজের ভিডিও নেয়ার জন্য রবিউল আজিম গাড়ির ছাদ খুলে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় ইলিয়ট ব্রিজের প্রবেশমুখে থাকা লোহার পাইপের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে গাড়ি থেকে পড়ে যান আজিম। গুরুতর আহতাবস্থায় দ্রুত বন্ধুরা উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রবিউল আজিম তনু সাতক্ষীরা জেলার কলেরা থানার গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!