বাংলাদেশ ক্রিকেটে পঞ্চপাণ্ডবের একজন মাশরাফী। বাকিদের মধ্যে মুশফিকের ২০০৫, সাকিবের ২০০৬ এবং তামিম-মাহমুদউল্লাহর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে ২০০৭ সালের দিকে।
সেই সময়টায় ইন্টারনেট দুনিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া এতটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। বিশেষ করে মাশরাফীর সময় তো সোশ্যাল মিডিয়ার ধারণাও ছিল না মানুষের মাঝে।
.png)
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী রোববার এক অনুষ্ঠানে নিজেদের ক্যারিয়ার শুরুর সময়টাতে সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না বলে নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে দাবি করলেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, যদি ওই সময় সোশ্যাল মিডিয়া থাকতো, তাহলে তারা আজ এতদুর আসতে পারতেন না।
রাজধানীর পল্টন ময়দানে আইজিপি কাপ যুব কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফী বিন মর্তুজা।
সেই অনুষ্ঠানেরই এক ফাঁকে মিডিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে বেশ কিছু কথাবার্তা বলেন মাশরাফী। সেখানে তিনি বলেন, ‘যে পাঁচ জনের (পঞ্চপাণ্ডব) কথা বলছেন, আমরা খুবই সৌভাগ্যবান যে আমাদের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। আপনি যদি আমাদের আর্লি ক্যারিয়ার দেখেন, তখন যদি সোশ্যাল মিডিয়া থাকত, তাহলে আমরা এতদুর এসে খেলতে পারতাম না, এটা একটা প্রবলেম।’
সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ওপর খুবই বাজে প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেন মাশরাফী। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘যখন ইয়াং প্লেয়াররা আসছে, তাদের উপর ইমপ্যাক্টটা (সোশ্যাল মিডিয়ার) পড়ছে। এটা ধরে রাখা সহজ না। একটা প্লেয়ার যখন পারফর্ম করতে পারছে না, তখন চারদিক থেকে যদি অ্যাটাক করা হয়, তখন কিন্তু সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।’
ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের টিকিয়ে রাখতে হলে, ভালো পারফরম্যান্স বের করে আনতে হলে সাপোর্ট করা দরকার বলে মনে করেন মাশরাফী। তার ভাষায়, ‘এখানে আমাদের সাপোর্টটা খুব প্রয়োজন। তামিমকে দেখেন, আমাকে দেখেন, সাকিব মেবি ডিফরেন্ট কেইস, মুশফিককে দেখেন, তারা কিন্তু আর্লি ক্যারিয়ারে বাদ (দল থেকে) পড়েছিল। হয়তো তামিম পড়েনি। তবে আজকের তামিম ইকবাল ছিল না তখন। এক্সপেক্ট সাকিব ছাড়া সবাই কষ্ট করে একটা পর্যায়ে এসেছে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো খুব সহজ না যে এসেই পারফরম্যান্স করবে। মাশরাফী বিষয়টা তুলে ধরেছেন এভাবে, ‘তো এখন যেটা হয়, (একজন খেলোয়াড় দলে) আসলেই সবাই পারফরম্যান্স চায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এত সহজ না যে আপনি এসেই পারফরম্যান্স পাবেন বা হবে। এটা অল অ্যাবাউট পেশেন্স। তার আগে আপনাকে দেখতে হবে সে কতটা তৈরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য। এই দুইটা ব্যালেন্স করা খুব জরুরি।’