লিগ ওয়ানে গত শনিবার নেইমারের জোড়া গোলে মপেঁইকে ৫-২ এ উড়িয়ে দিয়েছিল পিএসজি। দারুণ এই জয় ছাপিয়ে আলোচনায় কিলিয়ান ও নেইমারের বর্তমান বৈরি সম্পর্ক। গণমাধ্যমের খবর, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে দুজন বাগবিতণ্ডার পর নেইমার আর কিলিয়ান এমবাপের মধ্যে নাকি এক দফা হাতাহাতিও হয়ে গেছে। তখন তাদের সতীর্থরা এগিয়ে এসে তাদের আলাদা করেন।
‘স্পোর্টস বাইবেল’-এর প্রতিবেদন, শনিবার রাতে মপলিয়েরের বিপক্ষে পিএসজি বড় জয় পেলেও পেনাল্টিকে কেন্দ্র করে ড্রেসিংরুমে গিয়ে ‘মারামারি’ বাঁধিয়েছেন নেইমার-এমবাপে। এরপর থেকে তাদের সম্পর্কের মধ্যে চলছে টানাপোরেন।
.png)
এ অবস্থায় দুই তারকার এই বিরোধ প্রশমনে দলটির বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়কের মধ্যস্থতায় আপাতত বৈরিতার আগুন কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা।
মৌসুমের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেন নেইমার। কিন্তু ঝামেলাটা বাঁধে পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে। দুই দল যখন ০-০ সমতায়, তখন একটি পেনাল্টি পেয়েছিল পিএসজি। এমবাপে সেই পেনাল্টি নেন এবং মিস করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি আরেকটি পেনাল্টি পাওয়ায় এমবাপে কিক নিতে চাইলে সেটা নিতে দেননি নেইমার। নিজেই জোর করে পেনাল্টি নেন এবং গোল করেন।
স্বভাবতই এমবাপে এই ঘটনায় খুশি হতে পারেননি। ম্যাচে তাকে অনেক সময়ই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বল সামনে না আসলে দৌড়াচ্ছিলেন না ফরাসি এই তারকা।
ফরাসি দৈনিক লে প্যারিসিয়েন জানিয়েছে, ম্যাচের পর সবার আগে নেইমার এবং এমবাপের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে রোববার পিএসজির ক্রীড়া পরামর্শক লুইস কাম্পোস দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যকার ঝামেলা মিটমাট হয়ে গেছে বলেই খবর দেয় ফরাসি সংবাদমাধ্যম।
মৌসুম শুরুর আগে থেকেই নেইমার এবং এমবাপের বিরোধের খবর শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের পর নেইমারকে ক্লাব ছাড়া করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন, এমনটা জানিয়েছিল ফরাসি সংবাদমাধ্যম। নেইমার-ইস্যুতে মেসির সঙ্গেও এমবাপের সম্পর্কে চিড় ধরেছিল বলে খবর চাউর হয়েছিল।
এমবাপের এসব কর্মকাণ্ডে নেইমারও ক্ষিপ্ত।
সম্প্রতি এমবাপের সমালোচনা করা এক টুইটে নেইমারের ‘লাইক’কে দুই তারকার মধ্যে বৈরিতার নিদর্শন হিসেবে ব্যাখ্যা করছে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম।
তবে নতুন মৌসুমে ক্যারিয়ারে পুরনো ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন নেইমার। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন তিনি। নেইমার -এমবাপ্পের এই বৈরিতার অবসানে পিএসজি শিবিরে শান্তি ফিরে আসবে এটাই প্রত্যাশা পিএসজি ফ্যানদের।