নাটকীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া
নাটকীয় সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের দুই গোলে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে নেশন্স লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে ফলাফল ২-২ গোলে সমতায় ছিল। ফলাফল নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ায়। যেখানে ব্রুনো পেটকোভিচ ও অভিজ্ঞ লুকা মদরিচের দুই গোলে ক্রোয়াটদের জয় নিশ্চিত হয়।
গত বছর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট জলাতকো দালিচের ক্রোয়েশিয়া ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন শিরোপা জয়ের পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেল। একইসঙ্গে আরো একবার তারা প্রমাণ করলো, অতিরিক্ত সময়ের মানসিক ও শারিরীক লড়াইয়ে তারাই সেরা।
ম্যাচের ৩৪ মিনিটে ডনিয়েল মালেনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিক নেদারল্যান্ড। আন্দ্রেজ ক্রামারিচ ও মারিও পাসালিচের দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। স্টপেজ টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে নোয়া ল্যাং নেদারল্যান্ডকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছিলেন।
অতিরিক্ত সময়ে আট মিনিটে ফ্রেংকি ডি জংয়ের অ্যাসিস্টে পেটকোভিচ আবারো ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। পেনাল্টি থেকে ১১৬ মিনিটে দলের জন্য জয়সূচক গোলটি করেন মদরিচ।
নেশন্স লিগের মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া ও রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ মদরিচের সামনে শেষ সুযোগ আন্তর্জাতিক কোন শিরোপার স্বাদ নেবার।
কাল ম্যাচ শেষে ক্রোয়াট কোচ দালিচ বলেছেন, ‘এই জয়টা ক্রোয়েশিয়ার জনগণের জন্য। আমরা নেদারল্যান্ডকে তাদের সমর্থকদের সামনে পরাজিত করেছি। ক্রোয়েশিয়া আরো একটি পদক জয় করলো, এটা সত্যিই অভাবনীয়।’
এরপর তিনি বলেন, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমরা ফাইনালে খেলছি। আগের ব্যর্থতার কোন কিছুই এই দলটিকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে দেয় না। সবাই জানে তারা ক্রোয়েশিয়ার জন্য খেলছে। ক্রোয়েশিয়ার জন্য সবকিছু করা যায়।’
তিনি যোগ করেন, ‘এটা আমাদের অন্যতম বড় একটি জয়। স্বাগতিকদের ৪-২ গোলে হারানো মোটেই সহজ কাজ নয়। আমরা একসময় হেরে গিয়েছিলাম। ৯৬ মিনিটে গোল হজমের পর আবারো লড়াইয়ে ফিরেছি। অবশ্যই এই জয় ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেবে।’
নিজেদের শেষ ১৬ ম্যাচে মাত্র একটিতে পরাজিত হয়েছে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সর্বশেষ আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল।
১৯৮৮ সালে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ বিজয়ী নেদারল্যান্ডকে এবার তারা হতাশ করেছে। রোনাল্ড কোম্যানের দল নেদারল্যান্ডে ২০১৯ সালে পর্তুগালে অনুষ্ঠিত নেশন্স লিগের প্রথম আসরে রানার্স-আপ হয়েছিল।