ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]
ফিরে দেখা বিশ্বকাপ

১৯৮৩: ক্যারিবীয়দের সাম্রাজ্যে ভারতের হানা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:২৯, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
১৯৮৩: ক্যারিবীয়দের সাম্রাজ্যে ভারতের হানা
ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

কালের পরিক্রমায় ক্রিকেটে কত না পরিবর্তন।  শুরুটা এক, এখন আরেক। এই যে ভিন্নতা তবু কমেনি রঙ, ভাটা পড়েনি উন্মাদনায়ও। চার বছর পেরিয়ে আবারো এলো বিশ্বকাপ। এবার প্রতিবেশী দেশ ভারতে বসবে ১৩তম আসরটি। তার আগে সেদিনের বিশ্বকাপগুলোতে চোখ বুলানো যাক।

বিশ্বকাপের আগের আসর নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের ১২ পর্বের প্রতিবেদনে আজ থাকছে তৃতীয় পর্ব- ১৯৮৩: ক্যারিবীয়দের সাম্রাজ্যে ভারতের হানা।

আগের দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ক্রিকেটের রাজত্বটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে চলে যায়। তবে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসরে ক্যারিবীয়দের সেই রাজত্বে হানা দেয় ভারত। সেবারের আসরে খোদ ভারতের অনেক সদস্যরাই ভাবেননি যে তারা ইতিহাসের অংশ হতে চলেছেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরে ভারত। যে কারণে ১৯৮৩ বিশ্বকাপকে বলা হয় অঘটনের বিশ্বকাপ। 

শুধু তাই নয়, সেবার প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অঘটনের শুরু করে জিম্বাবুয়ে। তারচেয়েও বড় অঘটন রচিত হয় ফাইনালে। পাশাপাশি ওই বিশ্বকাপে ফিল্ডিংয়ে ৩০ গজ বৃত্তের প্রচলন ও গ্রুপ পর্বের খেলাগুলো হয় ডাবল লিগ পদ্ধতিতে। যা ক্রিকেটে ইতিহাস হয়ে আছে।

১৯৮৩ বিশ্বকাপে ভারত দল। ছবি- সংগৃহীত

অর্থের ঝনঝনানি, ক্রিকেট মাঠের আধিক্য বিবেচনায় তৃতীয়বারের বিশ্বকাপ আয়োজিত হয় ক্রিকেটের আতুড়ঘর ইংল্যান্ডে। ওই আসরে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে ক্রিকেটের নিয়মে। আগের বিশ্বকাপে বৈরী আবহাওয়ার জন্য সমস্যা হওয়ায় ১৯৮৩ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের খেলাগুলো হয় ডাবল লিগের ভিত্তিতে। বড় রদবদল আনা হয় ফিল্ডিংয়েও। চালু করা হয় ৩০ গজের ইনার সার্কেল। সে অনুযায়ী, তৃতীয় বিশ্বকাপ থেকে বৃত্তের মধ্যে চারজন ফিল্ডার রাখার বাধ্যবাধকতা শুরু হয়।

১৯৮৩ বিশ্বকাপে ম্যাচ বাড়লেও বাড়েনি দল। আগের দুই আসরের মতো এবারের বিশ্বকাপেও অংশ নেয় ৮টি দল। তবে ম্যাচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বৃদ্ধি পায় ভেন্যুর সংখ্যাও। এতে ২৭টি ম্যাচ আয়োজিত হয় ইংল্যান্ডের ১৫টি ভেন্যুতে। এই আসরেও ছিল না সিরিজ সেরার কোন পুরস্কার। ইংল্যান্ডের ডেভিড গাওয়ার ৭ ম্যাচে ৩৮৪ রান করে সর্বোচ্চ রান ও ভারতের রজার বিনি ৮ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হন। মূলত বিনির ঝলকেই ভারতের শিরোপা জেতার পথটা সহজ হয়ে যায়।

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে কপিল দেব। ছবি- সংগৃহীত

ভারতের ইতিহাস গড়ার আসরে ভালো সম্ভাবনা ছিল পাকিস্তানেরও। কিন্তু সেমিফাইনালে উইন্ডিজের কাছে হেরে ফাইনাল খেলার আশা হারায় তারা। আরেক সেমিফাইনালে অন্য ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে ফাইনালে জায়গা করে নেয় টুর্নামেন্টের ডার্ক হর্স ভারত। সেই যে চমক দেখানো শুরু, এরপর ফাইনালে রীতিমতো অবিশ্বাস্য ম্যাচ উপহার দেয় ভারত দল। 

যদিও ফাইনালে ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ১৮৩ রান করতেই ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে গুটিয়ে যায় কপিল দেবের দল। তখন সবাই মনে করছিল এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি বুঝি আবারো উইন্ডিজের হাতেই যাচ্ছে। 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বে ভালো শুরু পায় উইন্ডিজ। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতেই ৫০ রান টপকে যায় ক্যারিবীয়রা। ঠিক এই সময়ই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মদন লাল এবং মহিন্দর অমরনাথ। তাদের ঘূর্ণিতে একে একে পরাস্ত হতে থাকেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। এ ম্যাচে দু’জনেই তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। 

বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে উদযাপন করছেন কপিল দেব। ছবি- সংগৃহীত

মদন-অমরনাথের তোপে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় উইন্ডিজ বাহিনী। আর গোটা লর্ডস যেন ভেঙ্গে পড়ে ভারতীয় দর্শকদের উল্লাসে।

ভারতের অমরত্বের স্বাদ আর জিম্বাবুয়ের অবাক করা শুরুর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ছিল হট ফেবারিট দল। যারা কিনা গ্রুপের সেরা দল হিসেবে সেমিফাইনালও নিশ্চিত করে। তবে সমান সংখ্যক জয় ও পয়েন্ট থাকলেও রান রেটে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে থাকায় একই গ্রুপ থেকে  দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে যায় পাকিস্তান। 

এরপর গ্রুপ ‘বি’ তে দেখা মেলে রোমাঞ্চের। আইসিসি শিরোপাজয়ী জিম্বাবুয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দেয়। তারপর আর ঘুরেই দাঁড়াতে পারেনি অজিরা। গ্রুপ পর্বে ৬ ম্যাচের ৪টিতেই হেরে বসে তারা। সেজন্য আর সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি টিম অস্ট্রেলিয়া।

একনজরে ১৯৮৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ

স্বাগতিক দেশ: ইংল্যান্ড
চ্যাম্পিয়ন দল: ভারত
অংশগ্রহণকারী দল: ৮
মোট ম্যাচ: ২৭
সর্বোচ্চ রান: ৩৮৪ রান (ডেভিড গাওয়ার)
সর্বোচ্চ উইকেট: ১৮ উইকেট (রজার বিনি)।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেআর/ এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!