পরনে শাড়ি, টোঁটে গোলাপি লিপস্টিক, গলায় মানানসই হার আর কপালে টিপ―এমন সাজের এই তরুণীকে চিনতে পেরেছেন আপনারা? হয়তো চিনতে পারেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই আলোচনা-সমালোচনা কিংবা চর্চায় থাকেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুটা উজ্জ্বল হলেও সেখান থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ব্যক্তিজীবনের। দাম্পত্যজীবনে পদচারণা করেন। কিন্তু সুখের হয়ে উঠেনি সেই দাম্পত্যজীবন। স্বামী একজন প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট তারকা।
নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, বিয়েবহির্ভূতসহ একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। এত গেল দাম্পত্যজীবনের কথা। এর আগে ছিলেন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ (আইপিএল)-এর চিয়ারলিডার। এবার হয়তো কেউ কেউ ধারণা করতে পেরেছেন তার সম্পর্কে।
.png)
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ছবির এই তরুণী কলকাতার মেয়ে। আবার তিনি ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামির স্ত্রী ছিলেন। হ্যাঁ, তিনি হাসিন জাহান। ক্রিকেটারের সঙ্গে দূরত্ব হলেও, আলাদা থাকলেও এখনো ডিভোর্স হয়নি তাদের। সেই প্রক্রিয়া আদালতে বিচারাধীন। তাদের এই দাম্পত্য কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে হাসিন জাহানের সম্পর্কের এই তিক্ততা অজানা নয় কারও। আদালতে মামলা ঝুলে থাকা অবস্থাতেও বিভিন্ন সময় স্বামী শামিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলোধনা করতে দেখা গেছে ছবির তরুণীকে। কখনো স্বামীকে নপুংসক, আবার কখনো মেয়েবাজ তকমাও দিয়েছেন হাসিন জাহান।
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে থ্রো-ব্যাক ছবিটি শেয়ার করেছেন হাসিন জাহান। ক্যাপশনে বিশেষ কোনো তথ্য দেননি তিনি। তবে এতটুকু লিখেছেন, ‘হায়! আমার মাসুম মুখখানা...।’
নিজেকে মাসুম বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এতেই ক্রিকেটারের ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের রোষানলে পড়েন হাসিন জাহান। নেতিবাচক মন্তব্য আসতে থাকে। একজন লিখেছেন, ‘মাসুম নয়, বলো বেবফা চেহারা।’ আবার একজন লিখেছেন, ‘পুরো নাগিন একটা।’
কয়েকদিন আগেই অবশ্য বিশ্বকাপে স্বামী শামির পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলে ট্রোলের শিকার হয়েছেন হাসিন জাহান। তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, (শামি) ভালো খেললে টিমে থাকবে, ভালো আয় করবে। এতে আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। এ ধরনের মন্তব্যের পরই অর্থলোভী তকমা দেয়া হয় ক্রিকেটারের স্ত্রীকে।
২০১৮ সাল থেকে ক্রিকেটার শামির সঙ্গে বিচ্ছেদের আইনি লড়াই চলছে হাসিন জাহানের। আলিপুর কোর্টে বিচ্ছেদ মামলা বিচারাধীন। হাসিন জাহানের দাবি, তার স্বাময়ী যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন। আবার একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তার।
ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক সফরে যেয়ে হোটেল রুমেই যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন। আর যেই মোবাইল ফোন দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন ক্রিকেটার, সেটিও বাজেয়াপ্ত করেছে আদালত।
মডেল হাসিন জাহান পেশায় আইপিএএলে চিয়ারলিডার হিসেবে কাজ করেছেন। এর বাইরে বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেইনের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছেন। আইপিএলের ফাঁকেই পরিচয় হয়েছিল তাদের। প্রেম হওয়ার পর ২০১৪ সালের ৬ জুন বিয়ে করেছিলেন তারা। তাদের এক কন্যাসন্তানও রয়েছে।