রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের চতুর্থ দিনে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের ৫৬৫ রানে অলআউট হয়। স্বাগতিকদের চেয়ে ১১৭ রানে এগিয়ে থেকে খানিক পর টিম টাইগার্স ফিল্ডিংয়ে নামবে।
সপ্তম উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ১৯৬ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১০ সালে হ্যামিল্টন টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সপ্তম উইকেট জুটিতে ১৪৫ রান যোগ করেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টেস্টে এটিই এতদিন ছিল বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটে সর্বাধিক রানের জুটি। মুশফিক ও মিরাজ সেই রেকর্ডটি ১৪ বছর পর ভেঙে দেন।
.png)
ডাবল সেঞ্চুরির দুয়ারে এসেও হতাশা নিয়ে মুশফিক ফিরলে ভাঙে জুটি। খানিক পর শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে কোনো রান না করেই ফেরেন হাসান মাহমুদ।
শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা শরিফুল ইসলামের কল্যাণে বাংলাদেশের লিড একশ ছাড়িয়ে যায়। এরপর নবম ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন ১৭৯ বলে ৬ চারে ৭৭ রানের ইনিংস খেলা মিরাজ। পেসার আফ্রিদির বলে তিনি আঘা সালমানের তালুবন্দি হন। শরিফুল শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে করেন ১৪ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২২ রান। এক রানে অপরাজিত থাকেন নাহিদ রানা।
পাকিস্তানের পক্ষে নাসিম শাহ ৩টি উইকেট পান। দুটি করে উইকেট নেন যথাক্রমে শাহিন শাহ আফ্রিদি, খুররাম শাহজাদ, ও মোহাম্মদ আলী।
এর আগে শনিবার ৫ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে টিম টাইগার্স। সকালে সাবধানী, স্থির ও শান্ত মেজাজে ক্রিজে থেকে দলের স্কোরটাকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন মুশফিক ও লিটন দাস।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে শতাধিক রানের জুটি গড়ার পর আউট হন অর্ধশতক হাঁকানো লিটন। উইকেটরক্ষক এ ব্যাটার ৭৮ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৫৬ রানে সাজঘরে ফেরেন, ভাঙে ১১৪ রানের জুটি। নাসিম শাহর অফ স্টাম্পের বাইরের লাফিয়ে ওঠা বলে তিনি স্কয়ার ড্রাইভ করতে গিয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসবন্দি হন ।
এরপর মুশফিক-মিরাজ জুটি পাকিস্তানি বোলারদের সামনে অবিচল থেকে ব্যাটিং করছেন। তাদের হাত ধরে সফরকারীরা চালকের আসনে বসে যায়।
বাংলাদেশের হয়ে দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন মুশফিকের দখলে। ৬৮ ইনিংসে ৫ সেঞ্চুরি করলেন তিনি। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিনি তিন অংকের ঘরে পৌঁছেছেন। ৫৯ ইনিংসে ৪ সেঞ্চুরি করা তামিম ইকবালকে তিনি দুইয়ে নামিয়ে দিলেন।
রাওয়ালপিন্ডিতে ৮৯তম টেস্ট খেলতে নামা মুশফিক ১৬৪ ইনিংসে এখন ১১টি সেঞ্চুরির মালিক। ১৩৪ ইনিংসে ১০টি সেঞ্চুরি তামিমের। ১১৫ ইনিংসে ১২ সেঞ্চুরিতে সবার ওপরে মুমিনুল হক।
মুশফিক গড়েছেন আরেকটি কীর্তি। দেশের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন । তামিম ইকবালের মোট সংগ্রহ ১৫ হাজার ১৯২ রান। মুশফিকের রান এখন ১৫,১৫৯।