শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের জন্য বোলার ও টপ অর্ডার ব্যাটারদের দায় দিয়েছেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৩ রান করা তাওহীদ হৃদয়। একইসঙ্গে দিয়েছেন বিস্ময়কর এক তথ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লাল-সবুজের দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার নাকি উইকেট কেমন, সেটিই বুঝতে অক্ষম।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বলেন, ‘আমরা বেশির ভাগ খেলোয়াড় উইকেট পড়তে পারি না। আমরা বেশির ভাগ ম্যাচ খেলি মিরপুরে। চট্টগ্রামে খেললে জানি যে কেমন উইকেট হবে। কিন্তু অন্য জায়গায় একেক দিন একেক রকম উইকেট থাকে। আমরা যদি ভালো উইকেট খেলতে থাকি, তাহলে দিনের পর দিন গড়ালে উন্নতি করতে পারব। রাতারাতি হবে না।’
.png)
হায়দরাবাদের ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে রান পাহাড়ে চাপা পড়ার শঙ্কায় নাজমুল হোসেন শান্ত বাহিনী পড়ার শঙ্কা আগে থেকেই ছিল। ভারতীয় ব্যাটাররা তাই টাইগার বোলারদের সামনে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে ওঠা যেন ছিল সময়ের ব্যাপার। এরপর সাঞ্জু স্যামসন আর সূর্যকুমার যাদবের ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় বাংলাদেশের বোলিং লাইন আপ। টিম ইন্ডিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২৯৭ রান।
বিষয়টি নিয়ে হৃদয় বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, খুবই ভালো ছিল উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য। আমরা ভালো বোলিং করিনি। আমরা কিছু জায়গায় উন্নতি করতে পারি। আশা করি আমরা সেটা করতে পারব।’
‘আমরা তো বল ভালো করিনি। শুধু বল না, ব্যাটিংও ভালো করিনি পুরো সিরিজে। আমাদের কিছু জায়গায় ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হবে। ওরা অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে। আমরা আরো ভালো করতে পারতাম।’
প্রথম ম্যাচে ১২৮ রানের লক্ষ্য ৪৯ বল আগেই টপকেছে টিম ইন্ডিয়া। পরেরটিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরবোর্ডে তুলেছিল ২২১ রান। সফরকারীরা তার জবাবে ১৩৫ রানের বেশি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়।
সিরিজে টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতা নিয়ে হৃদয়ের ভাষ্য, ‘দেখুন প্রতিটা দলেই টপ অর্ডার থেকে রান হয়। সেখানে রান এলে স্বাভাবিকভাবেই ইনিংস বড় হয়। টপ ফোর থেকে যদি বড় রান আসে, তাহলে রান ১৮০ হয়। আমাদের সবকিছু মিলিয়ে উন্নতির অনেক জায়গা আছে। এই সিরিজে আমাদের জন্য অনেক কিছু শেখার আছে। আশা করি সেটা করতে পারবো।’
বিবর্ণ পারফরম্যান্সের কারণ হিসেবে সব খেলোয়াড়ের দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেন এই টাইগার ব্যাটার। তার মন্তব্য,‘সব জায়গাতেই কমতি ছিল। এক দিন ব্যাটিং ভালো হয়েছে তো বোলিং ভালো হয়নি, বোলিং ভালো হলে ব্যাটিং। আমরা আসলে এই রকম উইকেটে খেলি না। আমি অজুহাত দিচ্ছি না। তবে এ ধরনের উইকেটে আমরা যত খেলবো, তত ভালো খেলবো।’
ভারতের সঙ্গে ফ্ল্যাট উইকেটে ভারতের সঙ্গে শক্তির পার্থক্যের বিষয়টিকে সামে তুলে আনেন ডানহাতি এই ব্যাটার। দল হিসেবে তাদেরকেই দৃষ্টান্ত হিসেবেও চিহ্নিত করেন।
‘আমাদের মান যে খুব নিচে তা বলব না। আমরা তো বড় দলের সঙ্গে খেলেছি। ভারত শক্তিশালী দল। ওদের হোমে খেলা। ওদের সবকিছু ভালো। স্কিলের দিক থেকেও ওরা এগিয়ে আছে। আমরা যে খুব পিছিয়ে আছি তা বলবো না। আমরা ফ্ল্যাট উইকেটে কীভাবে খেলতে পারবো, সেটা যত খেলবো, তত ভালো বুঝব। ভারত আমাদের জন্য উদাহরণ হতে পারে। ফ্ল্যাট উইকেটে কীভাবে খেলা যায়, ভালো পরিকল্পনা করা যায়।’
বিশ্বের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আইপিএলের সঙ্গে বিপিএলের তুলনায় নারাজ হৃদয়। তার মতে, নিজেদের উন্নতি ঘটানো খেলোয়াড়দের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। তিবি বলেন, ‘বিপিএলের সঙ্গে আইপিএলের তুলনা করতে চাই না। উইকেটের কথাই শুধু নয়, আমাদের স্কিলেও উন্নতি আনতে হবে।’