বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ঢাকা ৯ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে। জবাবে রাজশাহী ১১ বল হাতে রেখে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পা দেয়।
১৭৫ রান তাড়ায় দলীয় ১৩ রানে মোহাম্মদ হারিসের উইকেট হারায় রাজশাহী। মুস্তাফিজের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে স্লিপে থাকা স্টিফেন এস্কিনাজির কাছে ক্যাচ দেন ১২ রান করা হারিস। আরেক ওপেনার জিসান আলম রানের খাতাই খোলেননি। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে যান। বল ব্যাটের উপরের কানায় লেগে শর্ট মিড উইকেটে থাকা থিসারা পেরেরার হাতে চলে যায়।
.png)
চতুরঙ্গ ডি সিলভার বলে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন ইয়াসির আলী রাব্বি। ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ না হওয়ায় সীমানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা শাহাদাত হোসেন দীপুর হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন। হাতে পড়লেও সেটা লুফে নিতে পারেননি দীপু।
অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়ও জীবন পান। নাজমুল ইসলাম অপুর লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে লেগ সাইডে ঠেলে দিয়ে এক রান নিতে চেয়েছিলেন। তবে বল সরাসরি চলে যায় নাজমুলের হাতে। তবে একটু দূরে থাকায় হাতে পড়লেও ক্যাচ নিতে পারেননি এই বাঁহাতি স্পিনার। জীবন পাওয়া ইয়াসির ও বিজয় তৃতীয় উইকেটে ৪২ রান যোগ করেন।
ইয়াসিরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আলাউদ্দিন বাবু। ডানহাতি মিডিয়াম পেসারের লেংথ ডেলিভারিতে ওয়াইড লং অন দিয়ে খেলতে গিয়ে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দেন ২২ রান করা ইয়াসির।
এরপর বাইশ গজে রানের চাকা সচল রাখার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন রায়ান বার্ল ও এনামুল হক বিজয়। শুরুতে একপ্রান্ত বিজয় আগলে রাখলেও অন্যপ্রান্তে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতে থাকেন বার্ল।
প্রথম ম্যাচেই ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন এনামুল হক বিজয়। পরের ম্যাচেও দারুণ ব্যাটিংয়ে ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ। থিসারা পেরেরার শর্ট ডেলিভারিতে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বিজয়।
চতুর্থ উইকেটে ১০৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বিজয় ও বার্ল রাজশাহীকে জয় এনে দেন। বিজয় ৪৬ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৩ ও ৩৩ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে উইকেট হারায় ঢাকা। শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। তাসকিনের অতিরিক্ত বাউন্সার সামলাতে ব্যর্থ হয়ে খোঁচা মারেন লিটন। প্রথম স্লিপে বল তালুবন্দি করেন ইয়াসির আলী রাব্বি।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবারো উইকেট পান তাসকিন। অফ স্টাম্পের একটু দূরে টার্ন করা বলে পরাস্ত হন তানজিদ। ৯ রান করা এই ওপেনারের ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে চলে যায়। বল গ্লাভসবন্দি করেন উইকেটরক্ষক আকবর আলী।
দুই ওপেনারকে দ্রুত হারালেও পাওয়ার প্লেতে রানের চাকা সচল রাখে ঢাকা। তৃতীয় উইকেটে স্টিফেন এস্কিনাজি ও শাহাদাত হোসেন দীপু ৭৯ রানের জুটি গড়েন। ২৯ বলে ৪৬ রান করা এস্কিনাজিকে বোল্ড করেন হাসান মুরাদ।
ব্যক্তিগত ১৬ রানে থাকা অবস্থায় একবার জীবন পান লঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা। ৯ বলে ২১ রান করে সেই বিদায় নেন তিনি। মোহর শেখের স্লোয়ার বাউন্ডারি পার করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ফলে দিপুর সঙ্গে তার ৩৬ রানের জুটি ভাঙে। এরপর ফিফটি হাঁকান দীপু।
ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহের দিনে এরপর আগুন ঝরান তাসকিন। ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে আরো দুই উইকেট নেন এই পেসার। ৪১ বলে ৫০ রান করে বাউন্ডারি লাইনে রায়ান বার্লকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন দীপু। সেই ওভারের পঞ্চম বলে চতুরাঙ্গা ডি সিলভাকে বিদায় করেন তাসকিন। তার শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে অফ সাইডে হাঁকাতে গিয়ে উইকেটরক্ষক আকবরের তালুবন্দী হন এই শ্রীলঙ্কান।
ম্যাচের শেষ ওভারে আরও তিন উইকেট নেন তাসকিন। ৯ বলে ১৩ রান করা আলাউদ্দিন বাবু, শূন্য রানে থাকা মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ এবং শুভম রাঞ্জানেকে ফিরিয়ে চার ওভারে মাত্র ১৯ রানের বিনিময়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৭ উইকেট নেন তিনি।
চার ওভারে মাত্র ১৯ রানের বিনিময়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৭ উইকেট নেন ম্যাচসেরা তাসকিন। সব ধরনের স্বীকৃত টি-২০তে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারি বাংলাদেশি এখন এই টাইগার পেসার।
ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে এক টি-২০ ম্যাচে ৭ উইকেট নেয়ার কীর্তি দেখান বাংলাদেশের এই গতি তারকা। এর আগে মালয়েশিয়ার সাজরুল ইদ্রুস চীনের বিপক্ষে ৮ রানের খরচায় নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। ভাইটালিটি ব্লাস্টের ম্যাচে লেস্টারের বোলার কলিন অ্যাকারম্যান বার্মিংহামের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ১৮ রানের খরচায় ৭ উইকেট।