ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]
মূলঃ আলবেয়ার কামু ( উপন্যাসঃ দ্য প্লেগ)

দ্য প্লেগ (পর্ব ৪৪)

অনুবাদ: মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: ২১:৪৩, ৩ অক্টোবর ২০২২
দ্য প্লেগ (পর্ব ৪৪)
ছবিঃ অন্তর্জাল, প্রতীকী

ব্যাপারটাকে সহজবোধ্য করার জন্যে, আমি এই বলে শুরু করতে পারি যে, আমার প্লেগ হয়েছিল, এই শহরে আসার অনেক আগেই, এবং এখানে এসেই আমি সেটিকে মোকাবিলা করেছি। এর অর্থ হলো যে, আমি এই শহরের অন্য যে কারুরই মতো। তাদের সঙ্গে আমার পার্থক্য একটাই। এই শহরের মানুষদের কেউ কেউ আছে, যারা জানে না যে তারা প্লেগের রোগী, অথবা জানলেও তারা এই পরিস্থিতির মধ্যেই স্বাচ্ছন্দ অনুভব করে এবং অবশিষ্টরা আক্রান্ত হবার আগেই বাইরে চলে যেতে চায়। অন্যদিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময়েই এটি হতে দূরে চলে যেতে চেয়েছি। 

“যখন যুবক ছিলাম, তখন সারল্যের ধারণা নিয়ে বাস করতাম আমি। অর্থাৎ আদৌ সেটি কোনো ধারণাই  ছিল না। ঐ সময়ে নিজেকে যন্ত্রনা দেওয়ার মতো মানুষ ছিলাম না আমি। জীবনকে উপভোগ করতে চাইতাম। যখন যা ইচ্ছে হতো তাই করতাম। বুদ্ধিবৃত্তির জগতেও আমার সহজ বিচরণ ছিল। মহিলাদের সাথেও আমি অসাধারন সখ্য স্থাপন করতে  পারতাম। এমনকি সামান্যতম স্বচ্ছন্দবোধ না করলে, তাদেরকে ছেড়ে দিতাম। ফলে তারা যেমন হালকাভাবে আমার জীবনে এসেছিল, ঠিক তেমনিভাবেই চলে যেত। তারপর একদিন আমি জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম।”

তারপর? 

Advertisement

“একটা কথা তোমাকে জানানো দরকার যে, যৌবনে আমি গরীব ছিলাম না, যেমনটি তুমি ছিলে। আমার পিতা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরি করতেন। প্রসিকিউটর এটর্নী। তবে তাকে দেখতে কখনোই সেরকম মনে হতো না। তিনি ছিলেন একজন দয়ালু ও ভালো মনের মানুষ। আমার মা ছিলেন একজন সরল ও লজ্জাশীলা মহিলা। আমি তাকে খুবই ভালোবাসতাম। তবে আমি এখানে তার সম্পর্কে বলব না। আমার পিতা সবসময়েই আমার প্রতি খুব দয়ালু ছিলেন। আমি এটাও ভাবি যে, তিনি আমাকে বোঝার চেষ্টা করতেন। মায়ের জন্যে  দৃষ্টান্তজনক কোনো স্বামী ছিলেন না  তিনি, আমি এখন এটা বুঝতে পারি। তবে তার আচরণ কখনোই আমার জন্যে খুব মনোকষ্টের বিষয় ছিল না।”

“কারণ, প্রবল রকমের অধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও তার আচরণ তার জন্যে কোনো অখ্যাতির সৃষ্টি করত না। সংক্ষেপে বলতে গেলে তিনি মোটেই গোঁড়া মানুষ ছিলেন না। তার মৃত্যুর পর আমি বুঝতে পেরেছি  যে, যদিও তিনি সাধু পুরুষ ছিলেন না, তবুও  সন্দেহ নেই যে, শালীন ধরণের মানুষ ছিলেন। সব সময়েই  মধ্যপথ অবলম্বন করতেন তিনি। মোটের ওপরে তিনি ছিলেন একজন মানুষ যাকে সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখত।”

“আমার পিতার একটা অদ্ভুততা ছিল। একটা বিশাল রেলওয়ে ডাইরেক্টরি তিনি সব সময়ে তার বিছানার পাশে রাখতেন। পড়ার জন্যে। এমন নয় যে, তিনি প্রায়ই ট্রেনে করে বেড়াতে যেতেন। বেশিরভাগ সময়েই তার একমাত্র গন্তব্য ছিল ব্রিটানি। সেখানে তার একটি ছোট কান্ট্রিহাউজ ছিল, যেখানে তিনি প্রতি গ্রীষ্মে গমন করতেন। তবে তিনি নিজেই ছিলেন ট্রেনের  চলন্ত সময়সূচী। তিনি তোমাকে প্যারিস-বার্লিন এক্সপ্রেসের আগমণ ও প্রস্থানের সময় সঠিকভাবে বলে দিতে পারতেন। এমনকি কীভাবে লিওন থেকে ওয়ারস যেতে হয়, কোন গাড়িতে যেতে হবে, কোন সময়ে; যে কোনো দুই রাজধানীর মধ্যকার সঠিক দূরত্ব কত ইত্যাদি বিষয়গুলো। তুমি কি আমাকে কোনোকিছু না দেখেই বলতে পারবে ব্রিনানকন হতে চ্যামোনিক্স এর দূরত্ব কত?”

আমি নিশ্চিত যে, স্টেশন মাস্টার পর্যন্ত মাথা চুলকাবে। কিন্তু আমার পিতার মুখে মুখে এর উত্তর ছিল। প্রায় প্রতিদিন বিকেলেই তিনি তার এই জ্ঞানের চর্চা করতেন এবং এ বিষয়ে গর্ব অনুভব করতেন। তার এই সখ আমাকে খুবই মুগ্ধ করত। আমি তাকে ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিল সমস্যা দিতাম এবং তার দেওয়া  উত্তরগুলো রেলওয়ে ডাইরেক্টরি হতে পরখ করে নিতাম। প্রায় ক্ষেত্রেই তিনি সঠিক হতেন। পিতার সাথে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল। বিশেষ করে আমরা যখন রেলওয়ে নিয়ে খেলতাম। তার জন্যে আমি একজন খুবই ভালো মনযোগী ও সমঝদার শ্রোতা ছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি তার সকল কর্মসম্পাদনকে প্রশংসনীয় বলে ভাবতাম। 

“আমি জানি যে, তুমি ভাবছ পিতার এতো প্রশংসা আমি করছি কেন? আমার এই উচ্ছাসের কারণ হলো আমার হৃদয়ের একটা বিশাল পরিবর্তনের পেছনে তার একটা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল, যেটা সম্পর্কেই আমি তোমাকে বলতে চাই।”
চলবে.....

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!