ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিল্প ও সাহিত্য ]

প্রতিশোধ

মূল:‘The Dreams’ by Naguib Mahfouz (নাগিব মাহফুজ একজন মিশরীয় লেখক। ১৯৮৮ সনে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।)
অনুবাদ: মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ 
প্রকাশিত: ১১:৪১, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
প্রতিশোধ
ছবি: প্রতীকী, জলের নীচে ক্লিওপেট্রার ধ্বংসাবশেষ, আলেকজান্দ্রিয়া, মিশর

“আলোহীন একটা বাগান-বাড়িতে আমরা কয়েক বন্ধু একত্রিত হলাম। বন্ধুত্ব ও শৈশবে একসাথে বেড়ে উঠাই  আমাদেরকে এখানে টেনে এনেছে একসাথে।

বাগান-বাড়িটি আমাদের সবারই পূর্ব পরিচিত। অন্ধকারেও ভয় পাবার কিছুই নেই এখানে। সুতরাং, রাত বাড়ার সাথে সাথে আমাদের আনন্দের আতিশয্যও বাড়তে লাগল। সবাই হাসি-ঠাট্টা শুরু করলাম। কেউ কেউ কৌতুক ও কেউ কেউ গল্প বলতে শুরু করল।

এক সময়ে আমরা ভূতের গল্প বলা শুরু করলাম। সবাই যেহেতু পরস্পরকে গলার কণ্ঠস্বর দিয়ে চিনি, সেহেতু অন্ধকারের ভেতরেও আমাদের ভয় করল না। বরং আমাদের অট্টহাসি বাগান-বাড়ির চারদিকের দেয়াল পেরিয়ে বাইরের ঘুমন্ত অধিবাসীদেরকে জাগিয়ে দিতে লাগল। গল্পের মধ্যদিয়ে আমরা পরস্পরের কাছে আসতে লাগলাম। এক সময়ে সবাই খেয়াল করলাম যে, বাগানবাড়িটি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে চারদিকে। চারপাশের ঘুটঘুটে অন্ধকারও এই বিস্তৃতিকে ঠেকাতে  পারছে না। একসময় মনে হলো যে, আমাদের আজকের এই আড্ডা এই বাগান-বাড়িতে শেষ হবে না। শেষ হবে অন্য কোথাও। হতে পারে সেই জায়গাটি  কোনো বিশাল মাঠ বা প্রধান সড়কের ওপরে।
আমাদের একজন তখন ফারাও রাণীর গল্প বলছিল। রাণী তার ধর্মযাজকদের ওপরে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। কারণ, তারা তার স্বামীকে হত্যা করেছিল। তিনি তাদেরকে একটা জায়গায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। জায়গাটি দেখতে ছিল  অনেকটা আমাদের আজকের মিলনস্থলের মতো। তারপর সেটি পানির নীচে ডুবে গিয়েছিল  রাণী ও ধর্মযাজকদের সবাইকে নিয়ে।

Advertisement

গল্পটি শেষ হবার আগেই আমরা অনুভব করলাম আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সাথে প্রবল বাতাস ও বিদ্যুতের চমকানি। একটুপর সবাই অনুভব করলাম যে, আমাদের পা ডুবে গেছে বৃষ্টির পানিতে এবং তা আমাদের পায়ের গোড়ালি বেয়ে ওপরের দিকে উঠছে। ক্রমশ আমরা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেতে লাগলাম অন্ধকারের ভেতরে।

আমাদের সমস্ত আনন্দ-কৌতুক ও হাসিঠাট্টা উবে গেল। বাঁচার কোনো ফ  রইল না - একমাত্র আকাশে উড়ে যাওয়া ছাড়া।”

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!