ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ সংযোগ ]

আর্টিমিয়া চাষ ও গিফট তেলাপিয়া বিস্তারে একসঙ্গে বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানা

ডেইলি বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:১৪, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আর্টিমিয়া চাষ ও গিফট তেলাপিয়া বিস্তারে একসঙ্গে বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানা
কর্মশালায় বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং মৎস্য চাষ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন

টেকসই মৎস্য চাষে জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Brine Shrimp Artemia Aquaculture, GIFT Dissemination and Institutional Collaboration’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালা।  মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ আয়োজিত এ কর্মশালায় বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং মৎস্য চাষ বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় সিজিআইএআর (CGIAR) এর সাসটেইনেবল অ্যানিমাল অ্যান্ড অ্যাকুয়াটিক ফুডস এবং স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট (এস ফর ইউ)সায়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় আর্টিমিয়া চাষ, সমন্বিত লবণ-আর্টিমিয়া-মৎস্য চাষব্যবস্থা এবং গিফট (GIFT- Genetically Improved Farmed Tilapia) তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল বিস্তার নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি তিন দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং উদ্ভাবনী মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

Advertisement

কর্মশালার প্রথম পর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ প্রকল্পের অর্জন ও শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়। আলোচনায় কক্সবাজারের লবণ মাঠে আর্টিমিয়া, চিংড়ি, তেলাপিয়া, কাঁকড়া ও সবজি চাষের সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা, আর্টিমিয়া সিস্ট ও বায়োমাস উৎপাদন, হ্যাচারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল মাছ চাষের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ স্থান পায়।

এ পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক সরগেলুস এবং ওয়ার্ল্ডফিশের আর্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান। তারা আর্টিমিয়া গবেষণা ও উন্নয়নের বৈশ্বিক অগ্রগতি, বাংলাদেশের অর্জন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের তিন দশকের গিফট তেলাপিয়া উন্নয়ন ও বিস্তারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেন প্রণীত মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ড. এ.এইচ.এম. কহিনুর এবং জিল্লুর রহমান। এতে GIFT তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল বিস্তার, জেনেটিক মান সংরক্ষণ এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এসব অভিজ্ঞতা কেনিয়া ও ঘানার প্রেক্ষাপটে কীভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ.টি.এম. ফারুক-উল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা মৎস্য চাষে উদ্ভাবন, গবেষণা এবং টেকসই সমাধানের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আরও উৎপাদনশীল, জলবায়ু-সহনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. খন্দকার মুরশেদ-ই-জাহান গিফট তেলাপিয়া প্রসঙ্গে  বলেন, গিফট (GIFT) একটি পরীক্ষিত ও সফল প্রযুক্তি। তবে এই প্রযুক্তিকে কীভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে কার্যকরভাবে স্থানান্তর ও বিস্তার করা যায়, বিশেষ করে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে বিভিন্ন অংশীজনের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, পরিচালক, বিসিক; ড. মোতালেব হোসেন, পরিচালক (ইনল্যান্ড ফিশারিজ), মৎস্য অধিদপ্তর; এবং ড. আমিরুল ইসলাম, পরিচালক (গবেষণা, পরিকল্পনা ও অর্থ), বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

আয়োজকদের মতে, এ কর্মশালা বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং এশিয়া ও আফ্রিকায় উৎপাদনশীল, জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেয়ার/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!