দীর্ঘায়ুর চিহ্ন রয়েছে আপনার শরীরে!
সুস্থ থাকা এবং দীর্ঘ জীবনের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখ্য বারবার করেছেন গবেষকরা। যদি বয়সের চেয়ে কোনও মানুষের অনুভূতি ১৩ বছর ছোট হয়, তাহলে তারা বেশিদিন বাঁচবেন। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় যেখানে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫০০ জনেরও বেশি পুরুষ ও মহিলা অংশগ্রহণ করেছেন। গবেষনায় দেখা গেছে যারা দীর্ঘজীবী হন, তাঁদের শরীরে দেখা যায় বেশ কিছু লক্ষণ। শরীরের কয়েকটি লক্ষণ বা সিম্পটম্পস বা কিছু অভ্যাস থেকে জানা যায় ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন বাঁচবেন কিনা।
সুস্থ-সবল, দীর্ঘ জীবন সকলেই বাঁচতে চায়। দীর্ঘজীবন লাভের আকাঙ্খা প্রত্যেকের। শরীরের অন্দরের অঙ্গগুলির সুস্থতা দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার দেহের মধ্যে কী চলছে তার প্রতিফলন দেখা যায় শরীরের বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলিতে।
গবেষক Jacqui Smith, PhD, University of Michigan এর মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জানালেন, ‘‘"যৌবন অনুভব করা ভাল স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে যুক্ত।’’ এটি আশাবাদ এবং চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠার প্রেরণা উন্নত করতে পারে, যা চাপ কমাতে এবং আপনার ইমিউন সিস্টেমকে বাড়াতে সহায়তা করে এবং শেষ পর্যন্ত আপনার রোগের ঝুঁকি কমায়।"
.png)
Mary Jane Minkin, MD, Yale University School of Medicine এর প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিদ্যার ক্লিনিকাল অধ্যাপক জানালেন মহিলাদের মেনোপজ দীর্ঘ জীবনের সঙ্কেত দেয়। তিনি জানালেন, ‘‘যেসব মহিলাদের ৫২ বছর বয়সের পরে মেনোপজ হয়েছে, দেখা গিয়েছে এটি স্বাভাবিকভাবে পরে অনুভব করা একটি দীর্ঘায়ু জীবনকাল বোঝাতে পারে। যেসব মহিলারা দেরিতে মেনোপজের মধ্য দিয়ে যান তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কম।’’

গবেষকরা অনুমান করেন যে তাদের মস্তিষ্কের স্থিতিস্থাপকতা কম কর্টিসল স্তরের কারণে হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে এই "স্ট্রেস হরমোন" এর অতিরিক্ত নিঃসরণ মস্তিষ্কের কোষের যোগাযোগকে বাধা দিতে পারে। কর্টিসল স্তর কমানোর বিজ্ঞানসম্মত উপায়ও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এগুলি হল ধ্যান করা, ব্ল্যাক টি পান করা পাশাপাশি ভাল ঘুমানো।
সুইডেনের Karolinska Institutet এর বিজ্ঞানীরা একটি গবেষণায় ৭৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫০০ জনেরও বেশি পুরুষ ও মহিলার উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছেন। এই গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গবেষণার লেখক Eliza Chakravarty, MD, Stanford University School of Medicine এর মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের অবাক করেছে যে দৌড়বিদদের শুধু হৃদরোগ কম হয়েছে তা নয়, এই ধরনের মানুষদের ক্যানসার, স্নায়বিক রোগ এবং সংক্রমণও কম ঘটেছে। গবেষক আরও জানালেন যদি দৌড়তে না চান, তাহলে এমন কোনও ব্যায়াম করুন যেখানে কিছু শ্বাসরুদ্ধ হবে।
এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা হাসিখুশি স্বভাবের মানুষ, যারা মানুষের সান্নিধ্য ভালবাসেন, এমন মানুষদের ডিমেনশিয়া (মস্কিস্কের সমস্যা) হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ কম। এই ধরনের মানুষরা নিজেদের চাপমুক্ত (স্ট্রেসফ্রি) বলেই জানিয়েছেন।
দিনে মাত্র ৪০ মিনিট দৌড়ানও বাড়িয়ে দিতে পারে আয়ু? ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা ২১ বছর ধরে দু'ধরনের ব্যক্তিদের উপর গবেষণা করেছেন। একদল যারা দৌড়েছেন প্রতিদিন, অন্যদল দৌড়ায়নি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি যারা প্রতিদিন মোটামুটি ৪০ মিনিট দৌড়েছেন, টানা ৫ সপ্তাহ ধরে, তারা অনেক বেশি সুস্থ রয়েছেন বেশি বয়সে। তাঁদের আয়ুও বেশি।