মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালির আগে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জি কে গউছ বলেন, ‘বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। কেউ কেউ বলেন, আমরা নাকি আন্দোলনকে ভয় পাই। অথচ আন্দোলন মোকাবিলা করেই বিএনপি জনগণের হৃদয় জয় করেছে। জনগণের দাবি আদায়ে বেগম খালেদা জিয়া ১৭ বছর আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন।’
.png)
তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি শুধু বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, জাতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি নামের রাজনৈতিক দলের জন্ম না হলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসত না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি যে দলের অবদান, সেটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে হুইপ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, বোকা বানিয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। উন্নয়নের কিছুই করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপেক্ষা করুন। চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন শুরু হয়েছে। যদি বাধাহীনভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারি, তাহলে আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যা করতে পারেনি, ইনশাআল্লাহ আমরা চলতি অর্থবছরেই তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি উন্নয়ন করব।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে জি কে গউছ বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। যারা কথায় কথায় ধমক দেন, তাঁদের বলতে চাই বিএনপি কোনো আঞ্চলিক দল নয়। আমরা কাউকে খাটো করি না। তবে কারও কারণে যদি গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে, তাকে কীভাবে প্রতিহত করতে হয়, বিএনপি তা জানে। বিএনপি আন্দোলনে যেমন সফল, তেমনি উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনাতেও সফল।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে কথা বলেন, তাঁদের জানা উচিত, গত ১৭ বছরে বিদ্যুৎ বিভাগকে শেখ হাসিনা ধ্বংস করেছেন। আমরা আশা করছি, অল্প দিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে। গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে। জ্বালানি সমস্যারও সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ।’
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া ও সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, হাজী এনামুল হক, এম. ইসলাম তরফদার তনু, অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, এমজি মোহিত, জালাল আহমেদসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহে গিয়ে শেষ হয়।