কেমন চাই বইমেলা
ফেব্রুয়ারি মানেই ভাষার মাস, বইয়ের মাস। ফেব্রুয়ারি এলেই বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে লেখক-পাঠকদের মিলনমেলা বসে। করোনা মহামারির ফলে ছেদ পড়েছে সেই ধারায়। মহামারি, সংকটে বইপ্রেমিদের তৃষ্ণা মিটছে কিভাবে? তুলে ধরছেন আহসান জোবায়ের।
করোনার চোখ রাঙানিতে পরপর দুই বছর বইমেলা শুরু হয়নি। তাই অনলাইনে বই কিনেছি। কিন্তু বইমেলায় বই দেখার, বই ছোঁয়ার যে অনুভূতি তা পূরণ হয়নি। এবার সেই তৃপ্তি মিটবে। বইমেলা পূর্বের মতো সুন্দর, প্রানবন্ত ঝলমলে হোক এমনটাই চাওয়া।
আশিকুল ইসলাম
শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিটিউট
.png)
বই মেলা মানেই প্রাণের মেলা। পৃথিবীর হরেক ঢঙের হরেক রঙের মেলার ভীরে একজন বইপ্রেমী হিসেবে বইমেলাই আমার নিকট সর্বোৎকৃষ্ট। গতবছর মার্চে শুরু হয়ে সুনির্দিষ্ট সময়ের দুদিন আগেই শেষ হয়েছিলো প্রাণের অমর একুশে বইমেলা, এবারেও ওমিক্রনের ছোঁবলে পিছিয়েছে বইমেলার চিরাচরিত শুরুর কাল। একজন বইপ্রেমী-পাঠক এবং একইসাথে সচেতন নাগরিক হিসেবে চাইব যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে অতিরিক্ত জায়গার সংকুলানে আয়োজন হোক এবারের বইমেলা। মেলার পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য যত্রতত্র স্টল দেয়া বন্ধ করা এবং মানসম্মত সুলভ মূল্যের খাবারের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত!
নাদিয়া সুলতানা
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
ছোটবেলা থেকেই ফেব্রুয়ারি মাস অধীর আগ্রহের। এ মাসের মূল আকর্ষণ ‘অমর একুশে বইমেলা’ আমাদের জাতীয় মনন ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বইমেলার ভালোলাগা শুধুমাত্র নতুন বইয়ের মলাট ওল্টানো, বই কেনাতেই নয় সেইসাথে গুণীজন-লেখক-পাঠকদের ভাব বিনিময়, অটোগ্রাফ-ফটোগ্রাফ, নিত্যনতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, বন্ধু-প্রিয়জনদের সাথে সাক্ষাৎ, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আড্ডা, প্রিয়জনদের বই উপহার দেয়া-নেয়া ইত্যাদি। এবারের আসরে তো শর্ত-জটিলতা আরো বেশি। এ আসর সফলভাবে শেষ হয়ে আগামী বছর করোনার অমানিশা কেটে চেনারূপে বইমেলা ফিরুক এই কামনাই করি।
তৌফিক মেসবাহ
নাট্যকলা বিভাগ
ভিনসেন্ট স্টারেটর একটা বিখ্যাত উক্তি ‘আমরা যখন বই সংগ্রহ করি, তখন আমরা আনন্দকেই সংগ্রহ করি।’ বইপ্রেমিদের জন্য এই আনন্দের উপলক্ষের পূর্ণতা পায় বইয়ের মাস ফেব্রুয়ারিতে। মাসব্যাপী চলমান এই বইমেলায় তারা যেন বই নয়, নিজের মনের খাবারই সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে ১৯৭২ থেকে চলমান বাঙালির এই ঐতিহ্যে ছেদ পড়ে। করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রামক ধরণ ওমিক্রনের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধির দিকে সর্বোচ্চ দৃষ্টি রেখে প্রণয়ন করা সরকারী নির্দেশনা মেনে বইমেলায় আসতে হবে সকল দর্শনার্থী ও বইপ্রেমিদের। আশা করি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলেই যেন বইমেলা উপভোগ করতে পারে; পাশাপাশি প্রত্যাশা থাকবে, বইমেলার এই চেতনার বীজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও যেন সঞ্চার করে দেওয়া হয়।
আবির হাসান
মার্কেটিং বিভাগ
বইমেলা হওয়া উচিত সকল স্তরের বইপ্রেমীর মিলনমেলা। আমি মনে করি বইমেলায় পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের সমন্বয়ে বই নিয়ে মুক্ত আলোচনাকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসা উচিত। তাই ওমিক্রনের থাবায় পড়েও দেয়া হয়নি লকডাউন! স্বাস্থ্যবিধির দিকে লক্ষ্য রেখেই চলছে হাট-বাজার, সুপার মার্কেট, বাণিজ্য মেলাসহ নানা ধরনের সমাবেশ।
একজন বইপ্রেমি হিসেবে বলতে পারি, বই মেলায় অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। যারা প্রকাশনী অর্থাৎ যারা স্টল ভাড়া নিবে তারা যেন অবশ্যই ভাক্সিনেটেড হয়। প্রতি স্টলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিৎ।
জুমিক কস্টা
নৃবিজ্ঞান বিভাগ