অপ্রতিম হত্যার বিচার তরান্বিত করণে কুবিতে মানববন্ধন
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার তরান্বিত করার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মানববন্ধন করেছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বায়োলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে সঠিক বয়স নিশ্চিত করে খুনিদের দ্রুত শাস্তি প্রদান ও তাদের সংশোধনাগারে পাঠানোর নিন্দা জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন হৃদয় বলেন, “অপ্রতিম হত্যার একমাস হয়ে গেলেও এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি, যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। খুনিদের বায়োলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে সঠিক বয়স নির্ণয় করে খুনিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাই।”
সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি বলেন, “একজন খুনি খুন করার পর বয়সের কারণে শাস্তি পাবে না, তা হতে পারে না। একজন খুন করার পর তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলাটাই অবান্তর। একজন খুনিকে শাস্তি না দিয়ে সংশোধনাগারে পাঠিয়ে সংশোধন করার কিছু থাকে না। আমি আমাদের সন্তান হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড চাই।”
অপ্রতিমকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বুলিং ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে মর্মে অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা বলেন, “অপ্রতিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের বুলিং করা হচ্ছে যা খুনের বৈধতা উৎপন্ন করছে। অপ্রতিমের মায়ের নামেও বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সবাইকে এগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।”
কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, “অপ্রতিমের বাবা আজ কোর্টের দরজায় দরজায় দৌড়াচ্ছে সুষ্ঠু বিচারের জন্য। তিনি অভিযুক্তদের সঠিক বয়স নির্ণয়ে বায়োলজিকাল টেস্টের আবেদন করেছেন। কোনো ধরণের টালবাহানা না করে যেন সঠিক বয়স নির্ণয় করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।”
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা , “বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা আজ নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ কারণ আমাদের ছেলেমেয়েরা মারা যাচ্ছে নৃশংস ভাবে খুন হচ্ছে কিন্তু এর যথার্থ বিচার আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এরকম বিচার হীনতার সংস্কৃতি এভাবে চলতে পারে না। এই বিচার ব্যবস্থাকে আমাদের ঠিক করতে হবে। আমরা চাই জননিরাপত্তা। আমরা অপ্রতীমের সুষ্ঠ তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত বিচার চাই।”
উল্লেখ্য, অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। গত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হন অপ্রতিম। রাতে ফিরে না আসায় পরিবার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।