ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

দুই প্রত্যক্ষদর্শীর রোমহর্ষক বর্ণনায় হলি আর্টিজান হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৯, ২৭ নভেম্বর ২০১৯
দুই প্রত্যক্ষদর্শীর রোমহর্ষক বর্ণনায় হলি আর্টিজান হামলা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ বুধবার দুপুরে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে ভয়াবহ ওই হামলায় স্তম্ভিত হয় গোটা দেশ।

ঘটনার দিন রাত ৯টা থেকে পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযানের আগ পর্যন্ত সেখানে কী ঘটেছিল, তা ওই রেস্তোরাঁয় খেতে আসা শারমিনা পারভীন আর বেকারির বাবুর্চি দেলোয়ার হোসেনের রোমহর্ষক বর্ণনায় উঠে এসেছে।

গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারি অবস্থিত। রাত ৯টার দিকে সেখানকার চিত্রটা অনেকটা এ রকম- লন আর বসার জায়গাগুলোতে বসে আছেন জাপানি অতিথিদের একটি দল, ইতালিয়ান অতিথিদের বড় একটি দল, ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে আরো কিছু বাংলাদেশি এবং দুটি দেশের নাগরিকও ছিল। কারো কারো টেবিলে খাবার দেয়া হয়েছে, কেউ কেউ খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল।

Advertisement

এদের মধ্যে একজন একজন শারমিনা পারভীন করিম। তিনি কেবলমাত্র খাবারের অর্ডার দিতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে ছিলেন দুই সন্তান ও স্বামী বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম। 

শারমিনা বলেন, খাবার অর্ডার করতে যাব। মেন্যু দিয়ে গেছে। সেই মুহূর্তেই গোলাগুলির শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি আমাদের সামনে তারা। শব্দ শুনে যেটা বুঝলাম, ওরা বাইরে লনে অ্যাটাক করেই তারপর ভেতরে এসেছিল। আমাদেরকে হেড ডাউন করতে বলল। আমরা মুসলিম কিনা জিজ্ঞেস করল। ওই টেবিলে শুধু আমাদের ফ্যামিলিই ছিলাম।

তিনি আরো বলেন, এরপর আমাদের সামনে ও পেছনের টেবিলে যারা ছিল তাদের শুট করল এবং চাপাতি দিয়ে কোপানো শুরু করল। আগে গুলি করে তারপর কাছে গিয়ে কুপিয়েছে।

তিনি জানান, এরপর প্রায় সারারাত ধরেই একটি টেবিলে করিম পরিবারকে বসিয়ে রাখা হয়। তাদের টেবিলে এনে বসানো হয় আরো দুজন তরুণী এবং দুই ব্যক্তিকে। তবে সকাল নাগাদ কমান্ডো অভিযানের আগেই তাদের বেরিয়ে যেতে দেয় জঙ্গিরা।

এদিকে রাতে যখন গুলি করতে করতে সন্ত্রাসীরা বেকারিতে ঢুকছিল, তখন দোতলার ফ্রিজ থেকে মাছ আনতে গিয়েছিলেন বাবুর্চি দেলোয়ার হোসেন। গুলির শব্দ পেয়ে তিনি আরো কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে দৌড়ে একটি বাথরুমে ঢোকেন। একটি বাথরুমে মোট নয়জন।

হামলাকারীরা সেটা টের পেয়ে বাথরুমের দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দেয়। ভোর পর্যন্ত ছোট্ট বাথরুমটিতে ঠাসাঠাসি করে কোনোমতে প্রাণ রক্ষা করেন বেকারির নয় কর্মী।

একপর্যায়ে তারা নিজেদের জামাকাপড় খুলে ফেলেন। পরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হলে ভোরে দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসেন, তখনো সন্ত্রাসীদের দখলে বেকারি। বেরিয়ে তারা সামনে পড়েন হামলাকারীদের। বাবুর্চি দেলোয়ার হোসেন বলেন, নয়জনের মধ্যে তিনজনই ভয়ে দোতলা দিয়ে লাফিয়ে পাশের ভবনে চলে যায়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের তিনজনকে ভেতরে নিয়ে যায়। ভেতরে দেখলাম অনেক রক্ত আর লাশ। সবাই ফ্লোরে পড়ে আছে। তাদের হাতে বড় একটা অস্ত্র ছিল। ছোট পিস্তল ছিল একটা। আর একটা করে চাপাতি। তাতে রক্তের দাগ।

এর কিছুক্ষণ পরেই প্যারা কমান্ডোদের অভিযান শুরু হয়। প্রাণ রক্ষার্থে আবারো দেলোয়াররা লুকিয়ে পড়েন। হামলাকারীদের ভাগ্যে কি ঘটেছে সেটা দেখার সুযোগ আর হয়নি বলে জানান তারা। ওই দুজন এও বলেন, হামলাকারীরা তাদেরকে ধর্ম সম্পর্কে নানা উপদেশ দিয়েছিল।

ওই ভয়াবহ ঘটনায় দেশি-বিদেশি ২০ জন নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে সশস্ত্র জঙ্গিরা। তাদের ছোড়া গ্রেনেডে দুই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা মারা যান। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। এছাড়া ওই ঘটনার সময় রেস্তোরাঁর একজন শেফ মারা যান।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট গত বছরের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এদের মধ্যে ১৩ জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে অভিযানে নিহত হওয়ায় মামলার বিচার থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। সূত্র- বিবিসি বাংলা

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!