ঘটনার পর রাত ২টার দিকে ডেমরার পাইটি এলাকার রাস্তা থেকেঐ তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা। তবে ঘটনার পর পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। জানা গেছে, ঐ তরুণী সংঘবন্ধ ধর্ষণের শিকার হননি। কথিত প্রেমিকের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাজধানীর শনির আখড়ার একটি বাসায় স্বেচ্ছায় ৪ যুবকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন।
কোকাকোলার সঙ্গে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে কাশবনে নিয়ে সংঘবন্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে নাটক সাজানো হয়। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শেষ পর্যন্ত তরুণী স্বীকার করেছেন ধর্ষণকাণ্ড সাজানোর কথা। জানিয়েছেন এ নাটকের আদ্যোপান্ত ও নেপথ্যের কুশীলবদের নাম।
.png)
তার দেওয়া তথ্যমতে, মো. জামাল উদ্দিন সরকার ও মো. মিরাজ হোসেন নামে দুজন তাকে টাকা দিয়ে ভয়ংকর এ নাটক সাজিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনের মধ্যে জামালকে গত ২৭ অক্টোবর রাতে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ার গোবিন্দপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জামাল এখন কারাগারে। এছাড়া বুধবার রাতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মিরাজকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে ধর্ষণ নাটকের মূল অভিনেত্রী সেই তরুণী বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে আছেন।
পুলিশের অনুসন্ধান ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক চিত্র বলছে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের মামলার বাদি ঐ তরুণী উল্টো আসামি হয়ে যেতে পারেন। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী তরুণীর বড় ভাই জানান, তার বোনের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরে। ১৫ দিন আগে তার বোন বড় ভাইয়ের বাসা কদমতলীতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ঘটনার দিন বিকেলে ডেমরা থানার কোনাপাড়ার ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকার মেলায় যান। মেলায় চাচাতো ভগ্নিপতি সেলিম ও তার বন্ধু আলমের সঙ্গে ঐ তরুণীর দেখা হয়। পরে তারা তাকে মেলায় বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ায়। সে সময় কোকাকোলার সঙ্গে নেশাজাতীয় কিছু একটা খাইয়ে অচেতন করে সিএনজিতে কোনাপাড়া কাশবনে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাতে ডেমরা থানার টহল পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশের অনুসন্ধান বলছে, গত ১৬ অক্টোবর ঘটনার সময় তরুণী কোনাপাড়া এলাকায় নয়; ছিলেন যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায়। ঐ এলাকাতেই জনৈক সেলিম ও আলমকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন জামাল ও মিরাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী মিরাজ তার কথিত প্রেমিকাকে ঠিক করেন। ঘটনার আগেরদিন জামাল ও মিরাজ মিথ্যা ধর্ষণ মামলা সাজাতে তরুণীকে ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ঘটনার কয়েকঘণ্টা আগে অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর দিনভর ভিকটিমকে গোবিন্দপুর শনির আখড়া এলাকার একটি বাসায় ৪ জন যুবককে দিয়ে ধর্ষণ করায় অভিযুক্তরা। এরপর তরুণীকে কোকাকোলার সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে অচেতন করে। ঐ অবস্থায় রাতের আঁধারে ডেমরা থানাধীন পাইটি এলাকায় পাকা রাস্তার ওপর ফেলে যায়। সেখান থেকে ঐ তরুণীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে পুলিশ।
অভিযুক্তরা তরুণীদের ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা সাজানোর ভয়ঙ্কর চক্র বলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে।
ডেমরা থানার ওসি শফিকুর রহমান বলেন, তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঐ তরুণীকে দিয়ে ‘নাটক সাজানোর’ বিষয়টি তদন্তাধীন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত।