গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. রুবেল শেখ ও তার স্ত্রী তানিয়া আফরোজ। শুক্রবার রাতে যশোরের অভয়নগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পাওনাদারদের ধার পরিশোধের চাপে পড়ে পরিচিত পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেই এ দম্পতি নবজাতককে অপহরণ করে বলে জানায় র্যাব।
.png)
শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী মিলি আক্তার কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাঠানপাড়ার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। ঢুলিভিটা বাজারের পাশে থাকার কারণে একই এলাকার ভাড়াটিয়া রুবেল ও তার স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রেফতারকৃত রুবেল মিলি আক্তারকে ফুফু বলে ডাকতেন।
মিলি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রুবেল ও তার স্ত্রী ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় আসেন। ভুক্তভোগী অসুস্থ থাকায় ৭ দিনের নবজাতককে রুবেল ও তার স্ত্রীর কাছে রেখে ওষুধ কিনতে বাইরে যান। ২০ মিনিট পর বাসায় ফিরে মিলি আক্তার রুবেল ও তার স্ত্রীকে দেখতে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করেন।
পরবর্তীতে ঢুলিভিটা বাজার কমিটির সহায়তায় রুবেলের বাসার ঠিকানা নিয়ে বাসায় গেলে বাসা তালা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া রুবেলের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রুবেল মোবাইল চালু করলে প্রথমে নবজাতককে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে পুনরায় ফোন বন্ধ করে দেন। ১ মার্চ রুবেল অন্য একটি নম্বর দিয়ে ভুক্তভোগী মিলি আক্তারকে ফোন করে জানায় নবজাতক ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ লাগবে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে নবজাতককে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় রুবেল।
মিলি আক্তার তার নবজাতক শিশুকে ফিরে পেতে র্যাব-৪ এর সহায়তা চেয়ে অভিযোগ করেন। র্যাব অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারসহ অপহরণকারীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে নজরদারি বৃদ্ধি করে। শুক্রবার রাতে র্যাব-৪ এর একটি দল যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন আমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী দম্পতি মো. রুবেল শেখ ও তানিয়া আফরোজকে গ্রেফতার করে। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত ৭ দিনের নবজাতককে।
নবজাতক অপহরণের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত দম্পতি জানায়, ২-৩ মাস যাবত ঢুলিভিটা বাজার এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল তারা। বিভিন্ন দোকান ও মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ করতে পারছিল না রুবেল। পাওনাদাররা ধার পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকায় সে ঢুলিভিটা এলাকা থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে সু-সম্পর্ক থাকায় কৌশলে নবজাতককে অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তারা ভুক্তভোগীর নবজাতককে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এরপর তারা ধামরাই থেকে প্রথমে খুলনায় যায়। সেখানে আত্মগোপনের জন্য সুবিধামতো ভাড়া বাসা খুঁজতে থাকে। পরবর্তীতে খুলনার অদূরে রূপসা নদীর পাশে যশোরের আমতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠে। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্নভাবে শিশুটির মাকে মুক্তিপণের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, মুক্তিপণ না পেলে শিশুটিকে গোপনে রূপসা নদীতে ফেলে দিয়ে আত্মগোপন করবে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন।