হেলাল খান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, মার্কেটে আমার ৬টি দোকান, কোনোরকমে একটি দোকানের মালামাল বের করতে পেরেছি। গোডাউনের মালামালও বের করতে পারিনি। কিছু পুড়েছে, বাকি সব পানিতে নষ্ট হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এ কথা বলেন তিনি।
.png)
ঐ ব্যবসায়ী বলেন, ছয়টি দোকানে ৬ কোটি টাকারও বেশি মালামাল ছিল। ঈদ উপলক্ষে গতকালই আমি ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মাল তুলেছি। সবই আমার নষ্ট হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার মতো মালামাল বের করতে পেরেছি।
ক্ষতির শিকার এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, আমিসহ অসংখ্য ব্যবসায়ী পথে বসে গেছে। সরকার যদি আমাদের কিছু ক্ষতিপূরণ দেয় তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে। নয়তো আমাদের মরণ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। মালামালের তুলনায় বলতে গেলে আমরা কিছুই বের করতে পারিনি।
অ্যানেক্সকো টাওয়ারের চতুর্থ তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত গোডাউন রয়েছে জানিয়ে ঐ মার্কেটের দোকানি নিজাম উদ্দিন বলেন, অ্যানেক্সকো মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় তার শাড়ির দোকান রয়েছে। দোকানের মালামাল নামাতে পেরেছি। কিন্তু মার্কেটের ছয় তলায় গোডাউন থেকে কোনো মালামাল নামাতে পারিনি। আগুনে হয়তো সব পুড়ে গেছে।
ওসমানী উদ্যানের সামনে রাখা মালামাল পিকআপে তুলছিলেন মহানগর শপিং কমপ্লেক্সের দোকানি নাজমুল।
তিনি বলেন, মহানগর শপিং কমপ্লেক্সের নিচ তলায় ছয় মাস আগে জিন্সের প্যান্ট এবং টি-শার্টের দোকান চালু করেছিলাম। দোকানে প্রায় সাত লাখ টাকার মালামাল ছিল। ভাবছিলাম সামনে ঈদে ভালো বেচাকেনা হবে। কিন্তু এরমধ্যে আগুনে সব শেষ। দোকান থেকে ৫০-৬০ ভাগ মালামাল বের করতে পেরেছি। বাকি মালামালে আগুন জ্বলছে। বড় ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেলাম।
এর আগে রাজধানীর বঙ্গবাজারে আগুন লাগে মঙ্গলবার ভোর সোয়া ছয়টার দিকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন সবগুলো বাহিনীর সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ৫০টি ইউনিট সেখানে কাজ করছে। তাদের সহায়তায় একে একে ঘটনাস্থলে আসেন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা।