শনিবার শাহজালাল বিমানবন্দরের আগমনী কনকোর্স হলের সামনে থেকে শারজাহ ফেরত যাত্রী সুমনকে আটক করা হয়। এ সময় তার পকেটে পাওয়া যায় একটি সোনার বার ও ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকার।
জানা গেছে, বিমানবন্দর কাস্টমসের গ্রিন চ্যানেল স্বাভাবিকভাবেই পার হয়ে যান সুমন। কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েন তিনি। তার কাছ থেকে মোট ৩ কেজি ২৩১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়।
.png)
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দল শারজাহ থেকে আসা যাত্রী মো. সুমন হোসেনকে আটক করে। এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে সব কার্যক্রম শেষে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করলে আভিযানিক দল কনকোর্স হলের সামনে তাকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন তার পায়ুপথে সোনা রয়েছে। এ সময় তাকে কাস্টমসের বডি স্ক্যানারে স্ক্যান করানো হলে তার কথার সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার দেহের কোন অংশে সোনা লুকানো আছে তা নিশ্চিত হওয়া লক্ষ্যে উত্তরার একটি ক্লিনিকে এক্স-রে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এক্স-রে পরীক্ষার পর যাত্রীর পায়ুপথ ও তলপেটে সোনার অবস্থান নিশ্চিত করেন ডাক্তার। এরপর যাত্রীকে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের বিমানবন্দর অফিসে নিয়ে আসা হয়।
জিয়াউল হক জানান, বিমানবন্দরে নিয়ে আসার পর যাত্রী সুমন ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক কার্যের মাধ্যমে তার পায়ুপথ ও তলপেটে লুকিয়ে রাখা ডিম্বাকৃতির পেস্ট গোল্ডের প্যাকেট বের করতে থাকেন। এ সময় অভিযুক্ত মোট ১৩টি ডিম্বাকৃতি গোল্ড প্যাকেট বের করে নিজ হাতে ধুয়ে দেন। ওজন করা হলে প্রতিটি প্যাকেটে ২৩২ গ্রাম করে মোট ৩ কেজি ১৬ গ্রাম সোনা পাওয়া যায়।
এছাড়া যাত্রীর পোশাকের পকেট থেকে আরো একটি গোল্ডবার (১১৬ গ্রাম) এবং ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৩ কেজি ২৩১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। পেস্ট গোল্ড সহ অন্যান্য গোল্ডের রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধারকৃত পদার্থ সোনা বলে জানা যায়। এই সোনার আমদানি এবং শুল্ক পরিশোধের কোনো ধরনের রশিদ তিনি দেখাতে ব্যর্থ হন। তিনি স্বীকার করেন, পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে সোনা পাচারের চেষ্টা করছিলেন। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শারজাহ প্রবাসী মিজান ও আনোয়ার তাকে এসব সোনা দেন।
মো. সুমন হোসেন মুন্সীগঞ্জ সদরের ইসমাইল হাওলাদারের। ব্যাগেজ সুবিধা ব্যবহার করে পণ্য আমদানির জন্য তিনি নিয়মিত বিদেশে যাওয়া-আসা করেন। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।