দুর্ধর্ষ এ ডাকাত দলের প্রধান ইলিয়াস মাস্টারসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
গ্রেফতার ডাকাত দলের অপর সদস্যরা হলেন- শাহিন ওরফে ভাগিনা, সোহেল, বাবুল, আসাদ, রাশেদুল ওরফে বিটু, ওহাব ওরফে নানা, সামাদ, দীপু ও মকবুল ওরফে মঙ্গল।
.png)
আসাদুজ্জামান বলেন, শীতের তীব্রতা ও কুয়াশা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহে দুর্ধর্ষ ডাকাত দলটি কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার বলসুতা ও অভ্রখোলা এবং দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার বাস্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন নির্জন এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি বাড়িতে সিরিজ ডাকাতি করে। সশস্ত্র এই ডাকাতদল গভীর রাতে বাড়ির গ্রিল কেটে ঢুকে পড়তো এবং দেশীয় অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে ফেলতো। বাড়ির পুরুষ সদস্যদের হাত-পা, চোখ-মুখ বেধে ফেলে এবং মহিলাদের চোখ-মুখ বেধে ফেলত।
এরপর ডাকাতদলের অন্য সদস্যরা মুহুর্তের মধ্যে বাড়ির আলমিরা, শোকেজসহ সবকিছু ভেঙে তছনছ করে মূল্যবান স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দামি কাপড়-চোপড় এমনকি টেলিভিশন পর্যন্ত খুলে নিয়ে যেত। এই দলের সর্দারকে দলের সদস্যরা ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করত। এসব ঘটনায় কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় ১টি এবং দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় ৩টি ডাকাতির মামলা হয়।
তিনি আরো বলেন, মামলার পর ঢাকা জেলা পুলিশের একটি চৌকস তদন্ত দল দুর্ধর্ষ ডাকাত মাস্টার গ্রুপকে গ্রেফতারে কাজ শুরু করে। এরপর অভিযান চালিয়ে মাস্টার গ্রুপের প্রধান ইলিয়াসসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে ডাকাতদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, লুন্ঠিত স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়। পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেফতার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।