ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

অনলাইনে কিস্তিতে স্বর্ণালংকার বিক্রি, লোভে পড়ে নিঃস্ব অনেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:৩০, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
অনলাইনে কিস্তিতে স্বর্ণালংকার বিক্রি, লোভে পড়ে নিঃস্ব অনেকে
ফাইল ফটো

অনলাইনে সামান্য ডাউনপেমেন্ট দিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি কিস্তিতে স্বর্ণলংকার বিক্রির ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক প্রবাসী। এমন প্রতারক চক্রের দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ পুলিশ কমিশনার (লালবাগ বিভাগ) মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‌‌‘ম্যাসেজ টু কমিশনার’ এক প্রবাসীর অভিযোগ আমলে নিয়ে মাঠে নামেন গোয়েন্দারা। গ্রেফতার করা হয় চক্রের দুজনকে। এর বাইরেও তন্ত্র, মন্ত্র আর ঝারফুঁকের বদৌলতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, যে কোনো সমস্যা সমাধানের নিশ্চয়তা দিয়েও তারা প্রবাসীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

Advertisement

তিনি আরো জানান, প্রবাসে থাকা স্বামী দেশে থাকা স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে চিন্তিত থাকাটা স্বাভাবিক। স্ত্রী-সন্তানদের সুরক্ষায় চেষ্টার কোনো কমতি নেই তাদের। এ ধরনের প্রবাসীদের টার্গেট করে অনলাইনে সক্রিয় এক শ্রেণির প্রতারক। তারা ২৪ ঘণ্টা মধ্যে বদজ্বীন থেকে মুক্তি, জাদু টোনা, বশিকরণ এমনকি বিচ্ছেদে পারদর্শী এ চক্রের সদস্যরা। প্রতারণার এ ভেল্কিবাজির ফাঁদ পাতা হয় শুধুমাত্র প্রবাসীদের জন্যই। আর এ ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকেই।
 
মশিউর রহমান বলেন, চক্রটির প্রতারণার আরেক হাতিয়ার অনলাইনে স্বর্ণালংকার বিক্রি। সামান্য পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে যে কোনো মূল্যের স্বর্ণালংকার ক্রয় করতে পারবেন প্রবাসীরা। এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি অনেক প্রবাসী। জুয়েলারি আইটেম বুঝে পাওয়ার আগেই, তারা প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন তাদের অ্যাকাউন্টে। সম্প্রতি এক প্রবাসী ম্যাসেজ টু কমিশনার এ এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আসে। অভিযোগ পাওয়ার পর সেটার ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকদের শনাক্ত করার পর দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, অনলাইনে স্বর্ণালংকার কেনার আশায় রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিকাশের মাধ্যমে তাদের কাছে ২০ হাজার, ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে। আমাদের জানা মতে, কয়েকশো রেমিটেন্স যোদ্ধা তাদের কাছে এ পরিমাণ টাকা দিয়েছে। টাকা দেওয়ার পর পরই তাদের বিকাশ নাম্বার, মোবাইল ও হোয়াটসআপ নাম্বার বন্ধ হয়ে যায়। প্রবাসীদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা। আবার কিছু সরলমনা প্রবাসী বিশ্বাস করে বিনিয়োগ করেছেন প্রতারক কবিরাজদের ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে। কিছুদিন পর তাদের (প্রতারক) উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার পর এইসব কবিরাজরাও তাদের ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দেয়। এভাবেই তারা প্রবাসীদের ঠকিয়ে আসছিল।  
 
এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রবাসীদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!