ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ডিএনসিসির পরিত্যক্ত পণ্য কেনা কার্যক্রমের শুরুতেই হোঁচট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ১২ মে ২০২৪
ডিএনসিসির পরিত্যক্ত পণ্য কেনা কার্যক্রমের শুরুতেই হোঁচট
ফাইল ফটো

এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পণ্য, চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোসা প্রভৃতি কেনার ঘোষণা দেয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। কিন্তু সঠিক কর্মপন্থা না থাকায় এ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, পরিত্যক্ত পণ্য কার্যক্রম পরিচালনায় যে তহবিল দরকার, তা সংশ্লিষ্টদের কাছে এখনো পৌঁছায়নি। নিজ পকেটের টাকা খরচ করে তা কেনার আগ্রহ হারিয়েছেন কাউন্সিলররা। আবার দিনের নির্দিষ্ট সময় কাউন্সিলর অফিস বন্ধ থাকায় কেনাকাটাও বন্ধ থাকে। মানুষ পরিত্যক্ত পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে ফিরে যান। এতে আগ্রহ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

নাগরিকদের অভিযোগ, কাউন্সিলর অফিসের লোকজন পরিত্যক্ত পণ্য বিক্রি করতে গেলে তারা আগ্রহ দেখান না। কয়েকটি ওয়ার্ডে পণ্য কিনলেও টাকা দেওয়া হয় না। তহবিলে বরাদ্দ নেই জানিয়ে ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে রাখা হয়। এ নিয়ে প্রতিটি মহল্লায় অসন্তোষ বিরাজ করছে।

Advertisement

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে পরিত্যক্ত পণ্য কেনা হচ্ছে। আপাতত কাউন্সিলর নিজ পকেট থেকেই টাকা দিচ্ছেন। শিগগিরই ডিএনসিসি থেকে অর্থছাড় করা হবে। তখন আঞ্চলিক কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কেনাকাটা চালিয়ে যাবে কাউন্সিলর অফিস।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আপাতত আঞ্চলিক কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব পণ্য কিনতে কাউন্সিলরদের বলা হয়েছে। অর্থছাড় করা হলে যিনি যত টাকার পণ্য কিনেছেন, তাদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে, ২২ এপ্রিল রাজধানীর মিরপুর রূপনগর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে ৫৪টি ওয়ার্ডে মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব পণ্য কেনার ঘোষণা দেন ডিএনসিসি মেয়র। এজন্য প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, মেয়রের ঘোষণা অনুযায়ী চিপসের প্যাকেট বা সমজাতীয় প্যাকেট প্রতি পিস এক টাকা, আইসক্রিম, ডিসপোজেবল কাপ এক টাকা, ডাবের খোসা দুই টাকা, কনডেন্স মিল্কের কৌটা দুই টাকা, মাটি, প্লাস্টিক, সিরামিক, মেলামাইন তিন টাকা, অন্য পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের দ্রব্যাদি প্রতি কেজি ১০ টাকা, পরিত্যক্ত টায়ার প্রতি পিস ৫০ টাকা, পরিত্যক্ত পলিথিন প্রতি কেজি ১০ টাকা, পরিত্যক্ত স্যানিটারি ওয়্যার কমোড, বেসিন প্রতি পিস ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই মূল্যতালিকা ডিএনসিসির প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন এই মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্য কিনছে কাউন্সিলর অফিস। পরে এসব পণ্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বর্জ্য পরিদর্শক আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নিয়ে ফেলছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!