পানির নিচে থরে থরে সাজানো হাজার বছরের পুরনো মদের পাত্র ঘিরে রহস্য
প্রত্নতত্ত্ববিদদের কাছে ভূমধ্যসাগর হলো দুর্মূল্য ঐতিহাসিক দ্রব্যের খনি। প্রায়ই ভূমধ্যসাগরের বুক চিরে এমন নানা ঐতিহাসিক জিনিস উদ্ধার করে আনেন তারা। এবার ভূমধ্যসাগরের অন্তত ৩০০ ফুট নিচে থরে থরে সাজানো প্রাচীন মদের পাত্রের খোঁজ পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সম্প্রতি এই খোঁজ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রত্নতত্ত্ববিদদের মধ্যে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা’র এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইতালির অন্তর্গত ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ সিসিলির কাছেই সমুদ্রের গভীরে এই মদ রাখার পাত্রগুলো খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। যার এক একটির বয়স দু’হাজার বছরেরও বেশি।

বহু বছর আগে সমুদ্রকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যের পসার কী ভাবে ঘটেছিল, সেই ইতিহাস জানতে পারার সুবর্ণ সুযোগ করে দেয় ভূমধ্যসাগর। সিসিলির কাছে সেই ইতিহাসের খোঁজ করতে গিয়ে সম্প্রতি যে মদের পাত্রগুলোর সন্ধান মিলেছে সেগুলোও তৎকালীন সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত একটি বড় খোঁজ। তবে এগুলো শুধুই বাণিজ্যের কাজে ব্যবহার হতো কি না তা নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, একটি জাহাজের মধ্যে এই পাত্রগুলো রয়েছে। তবে সেগুলো সবই ফাঁকা। দু’হাজারের বেশি বছর ধরে সমুদ্রের নোনা জলে থাকা সত্ত্বেও সেগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থাতেই রয়েছে। পাত্রগুলো আকারে বেশ বড় এবং স্থানান্তরের সুবিধার্থে প্রত্যেকটিই দু’টি হাতল যুক্ত।

তাদের মতে, এগুলো অলিভ ওয়েল রাখার জন্যও ব্যবহৃত হতো সে সময়। তবে জাহাজে করে এই পাত্রগুলো কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং কী ভাবে জাহাজটি ডুবে গিয়েছিল তা এখনো জানতে পারেননি তারা।

উল্লেখ্য, প্রাচীন জাহাজ উদ্ধার কিন্তু এই অঞ্চলে নতুন নয়। এর আগে ২০১২ সালে ইতালির লিগুরিয়ার কাছে সমুদ্র থেকে একটি জাহাজের ভাঙা অংশ উদ্ধার হয়েছিল। পরে গবেষণায় জানা গিয়েছিল অন্তত দু’হাজার বছর আগে ওই জাহাজটি ডুবে গিয়েছিল।