ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

এই মাটিতে সত্যিই হিরা মিলবে

সাতরং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
এই মাটিতে সত্যিই হিরা মিলবে
আরকানসাস স্টেট পার্ক। ছবি : সংগৃহীত

মাটি খুঁড়তে পারলেই হলো। তারপর আপনিও পেতে পারেন দুই-একটি হিরার টুকরা! আরকানসাস স্টেট পার্কের কথা বলছি। অনেকের কাছে যা ডায়মন্ডস স্টেট পার্ক নামেও পরিচিত। আমেরিকার ওই পার্কে একরের পর একর জুড়ে মাটির নিচে রয়েছে রঙ-বেরঙের হিরা। গল্প নয়, সত্যি।

এই পার্কটি প্রতিদিন গড়ে দুটি করে হিরার খোঁজ মেলে। ফলে সেখানে আমজনতার ভিড় লেগেই থাকে। এটিই দুনিয়ার একমাত্র হিরার খনি বলে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। যেখানে ঢুকতে কোনো সরকারি দরপত্র দরকার হয় না। আমজনতার জন্য এই পার্কের দ্বার অবমুক্ত। তবে আগে অবশ্যই অনলাইনে বা নিজে গিয়ে টিকিট কেটে রাখতে হবে।

আরকানসাসের পাইক কাউন্টিতে মারফ্রিজবোরো শহরে প্রায় ৯১১ একর ধরে গড়ে উঠেছে ওই হিরের পার্ক। তার মধ্যে সাড়ে ৩৭ একর জুড়ে রয়েছে ‘হিরার খনি’।

Advertisement

আমজনতার জন্য এই পার্কের দ্বার অবমুক্ত।

খনি বলতে সাধারণত যে ছবি ভেসে আসে, এটি অবশ্য তা নয়। প্রাকৃতিকভাবে একটি পাইপের আকারে গর্ত তৈরি হয়েছিল ওই পার্কে। প্রায় সাড়ে ৯ কোটি বছরের ক্ষয়িষ্ণু আগ্নেয়গিরির অংশ হলো ওই পাইপটি। বারবার অগ্ন্যুৎপাতের কারণে যা পাইপের আকারে গর্তের চেহারা নিয়েছে।

আরো পড়ুন : সাগর শুকিয়ে হলো ধু-ধু মরুভূমি

হিরার খনি ঘিরে এ বার প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছিল। রস্কো জনস্টন নামে এক ব্যবসায়ী ওই জমির উপরে ‘আরকানসাস ডায়মন্ড মাইন’ খুলে বসেন। রেষারেষিতে দুই গোষ্ঠীরই লোকসান হয়েছিল। আসরে নেমেছিল টেক্সাসের সংস্থাও। ’৭১-এর জুলাইতে ওই সম্পত্তির মালিকানা নেয় ডালাসের জিই ইন্ডাস্ট্রিজ (জিএফআই)। এরপর থেকে বেশকিছু একর জমি বেচে দিয়েছিল ওই সংস্থা। তবে হিরার খনির আকর্ষণ কমেনি।

টিকিট কেটে পার্কে ঢোকার পর নিজেদের যন্ত্রপাতি নিয়েই খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারেন।

মারফ্রিজবোরো শহরের এই এলাকায় এর চেয়েও বড় হিরা অবশ্য আগেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। ১৯২৪ সালে তা খুঁজে পান ওয়েসলি ওলে বেশাম নামে এক শ্রমিক। ‘আঙ্কল স্যাম’ নামে পরিচিত ওই হিরার ওজন ছিল ৪০ দশমিক ২৩ ক্যারেটের (৮.০৪৬ গ্রাম)। আমেরিকায় এত বড় হিরা আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন : তিব্বত থেকে বঙ্গোপসাগরে ব্রহ্মপুত্রের পথচলা

টিকিট কেটে পার্কে ঢোকার পর নিজেদের যন্ত্রপাতি নিয়েই খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারেন। অথবা চাইলে সেগুলো ভাড়াও নিতে পারেন। তবে ব্যাটারি বা মোটরচালিত যন্ত্র নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ।

এই খনিতে ঢুকে হিরের খোঁজে খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারেন যে কেউ।

জমি কেনার পর এর মান পরীক্ষা করিয়েছিলেন লিটল রক গোষ্ঠীর কর্ণধার স্যামুয়েল এফ রেবার্ন। তারপর থেকে বহুবার ওই জমিতে বাণিজ্যিকভাবে খননকাজ শুরু হলেও তা সফল হয়নি। যদিও ১৯০৭-৩২ সালের মধ্যে জমির উপরিস্তরে ক্ষয়ের পর প্রায়শই ৩০ ক্যারেট বা তার বেশি ওজনের হিরা পাওয়া যেত।

আরো পড়ুন : যেখানে মানুষ যায় মৃত্যুর নেশায়

এই খনিতে ঢুকে হিরের খোঁজে খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারেন যে কেউ। শর্ত একটাই— পার্কে ঢুকতে অনলাইনে বা সশরীরে টিকিট কাটতে হবে। সেই ব্যবস্থা তো বহু পার্কেই রয়েছে।

১৯০৬ সালের অগস্টে ২৪৩ একর খামারবাড়ির জমিতে দুটি অদ্ভুত দেখতে স্ফটিক খুঁজে পান হাডলসটন।

পার্কের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৯০৬ সালের অগস্টে তার ২৪৩ একর খামারবাড়ির জমিতে দুটি অদ্ভুত দেখতে স্ফটিক খুঁজে পান হাডলসটন। পরের মাসে লিটল রক নামে এক বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে ওই ২৪৩ একরের একাংশ বেচে দেন হাডলসটন ও তার স্ত্রী সারা।

সূত্র: আনন্দবাজার

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!