প্রদেশের 'লংওয়া' নামের গ্রামটিতেই প্রচলন ছিল এই অদ্ভুত রীতির। এই গ্রামে থাকেন কোনিয়াক উপজাতির মানুষ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডার ছোট পাহাড়ি এই গ্রাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। নাগাল্যান্ডের মোন জেলা সদর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে লংওয়া। গ্রামটির অবস্থানও আকর্ষণীয়৷ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের ঠিক মাঝখানে পড়ে গ্রামটি৷ ষাটের দশেকেও গ্রামের পুরুষরা যখনই সংঘর্ষে জড়িয়েছেন, তখনই শত্রুপক্ষের মাথা কেটে, তাদের সঙ্গে নিয়েই বাড়ি ফিরেছেন। বহুকালের রীতি অনুযায়ী, যার সংগ্রহে যত বেশি মানুষের মাথা সে তত সম্মাননীয়৷
কোনিয়াক নারী-পুরুষরা মুখে ও গায়ে এক ধরনের নকশা করেন। মাথায় পরেন অদ্ভুত এক ধরনের মুকুট। পুরো শরীরে থাকে বড়সড় অলঙ্কার। সে এমন সাজ যা দেখে সভ্য মানুষের মনে ভয়ের উদ্রেক হয়। এমনকি গ্রামের বাড়িগুলোও সাজানো হয়েছে পশুর কাটা মাথা দিয়ে ৷ কোনিয়াকদের গ্রাম প্রধানকে বলা হয় অঙ্ঘ ৷ এই নৃ-গোষ্ঠীতে বহুবিবাহের প্রচলন আছে। বর্তমান অঙ্ঘের ৬০ জন স্ত্রী রয়েছেন বলে জানা যায়। বিরাট ক্ষমতা অধীকারী হয়ে থাকেন গ্রামের অঙ্ঘ। আশপাশের ৭০টি গ্রামের শাসক তিনি। যার কিছু রয়েছে ভারত ভূখণ্ডে আর বাকিগুলো মিয়ানমারে।
.png)
লংওয়া গ্রামটি ভারত ও মিয়ানমার দুই দেশে বিস্তৃত৷ জেনে রাখা ভালো, এটি একটি বিরল আন্তর্জাতিক সীমান্ত৷ এখানে ভিসা ছাড়াই দুই দেশে যাতায়াত করতে পারেন স্থানীয়রা। গ্রাম প্রধানের বাড়িটিও ঠিক সীমান্তের মাঝামঝিই অবস্থিত। আরো বদনাম রয়েছে লংওয়ার। এখানকার মানুষের জীবিকার মূল উৎস হলো, গাঁজা ও আফিমের চাষ। মিয়ানমারে মাদকের চাহিদা থাকায়, এখানে উৎপাদিত গাঁজা এবং আফিমের ব্যবসা বেশ রমরমা।
সমালোচকরা বলেন, অধিকাংশ কোনিয়াকই মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত। তবুও পর্যকদের পছন্দের ঠিকানা লংওয়া। কিন্তু কেন? যেহেতু ভয় আর রহস্যকে জয় করতে মানুষ ভালোবাসে, তাই পর্যটকদের কাছে এই জায়গা আকর্ষণীয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। রূপকথার গল্প থেকে উঠে আসা নরমুণ্ড শিকারি কোনিয়াকদের সামনিসামনি দেখার সুযোগ কে ছাড়তে চাইবে! গ্রামে এখনও ১৩ জন নৃমুণ্ড শিকারি বেঁচে আছেন। আর আছে সবুজ পাহাড়, পাহাড়ি নদী, টলটলে পানির লেক। লংওয়া যেন ভয় আর সুন্দরের নেশা ধরানো এক মাদক।