ভাইকে হারাতে অন্য পুরুষকে দেহ উপহার, রানী মেরির কাণ্ডও অদ্ভুত
কোনো রানীর কথা উঠলেই কল্পনায় ভেসে ওঠে একজন সম্ভ্রান্ত নারী। যার মাথায় রয়েছে বিশাল মুকুট এবং পরনে রয়েছে রাজকীয় পোশাক। তবে তাকে কি ভিন্ন রূপে কল্পনা করতে পারেন? কিংবা বলতে পারে কি তার দ্বারাই হতে পারে রাজ্যের সব নৃশংস কিংবা অদ্ভুত কর্মকাণ্ড? এমনকি একজন রানী করতে পারে চুরির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড?
ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম কয়েকজন রানী সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-
রানী ক্লিওপেট্রা, মিশরের রানী
.png)

মিশরের রানী ক্লিওপেট্রার কথা কে না জানে? তার অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য তিনি সবার কাছেই পরিচিত ছিলেন। তবে ইতিহাসে তিনি এমন এক কাজ করেছিলেন যা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। ক্লিওপেট্রা ও তার ছোট ভাই উভয়ই তাদের বাবার কাছ থেকে মিশর শাসন করার অধিকার পেয়েছিল। ক্লিওপেট্রার বয়স যখন ১৪ বছর ছিল তখন তার ভাইয়ের বয়স ছিল ১০ বছর। ক্লিওপেট্রা বয়সে বড় এবং বুদ্ধিমান হওয়ায় সে তার ছোট ভাইকে শাসন করতে দেননি। কিন্তু কিছু বছর পর যখন তার ভাই প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন সে তার অধিকারের জন্য লড়াই শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার ভাই তাকে হারিয়ে মিশরের ক্ষমতা দখল করে এবং তাকে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখেন।
যখন রোমের বিখ্যাত সেনাপতি জুলিয়াস সিজার মিশর দখল করার জন্য আসেন, তখন ক্লিওপেট্রা তার সঙ্গে দেখা করার জন্য আলেকজান্দ্রিয়ায় যান। যেহেতু তার ভাই তার ওপর কড়া নজর রাখছিল, তাই সে নিজেকে একটি কম্বলে পেঁচিয়ে তার দাসীর সাহায্যে জুলিয়াস সিজারের বাড়িতে পৌঁছে যায়। সেখানে সে জুলিয়াস সিজারকে তার দেহ উপহার দেয়। অতএব জুলিয়াসের সঙ্গে তিনি শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এর বিনিময়ে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাকে সাহায্য করতে বলেন। জুলিয়াস সিজার শর্তে রাজি হয়েছিল। পরবর্তীতে তার ভাই নাইল নদীতে ডুবে মারা গেলে ক্লিওপেট্রা মিশরের রানী হয়ে যান।
মেরি অব টেক, যুক্তরাজ্যের রানী

রানীর হাতে কাড়ি কাড়ি টাকা/মোহর থাকাই স্বাভাবিক। আর তা দিয়ে পছন্দমতো জিনিস কেনা সম্ভব। কিন্তু ইতিহাসে এমন একজন রানী ছিলেন, যার কোনো কিছু পছন্দ হলেই তিনি তা চুরি করতেন। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এই লজ্জাজনক কাজটি করতেন রানী এলিজাবেথের দাদি অর্থাৎ রানী মেরি। রানী মেরি কারো বাড়িতে বেড়াতে যাবার পর সেই বাড়িতে তার যদি কোনো কিছু পছন্দ হয়ে যেতো, তাহলে সে সেই জিনিসটির সামনে দাঁড়িয়ে অনেক জোরে জোরে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলতেন এবং আপসোস করে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। এর মাধ্যমে অন্যরা বুঝতে পারেন যে রানীর এই জিনিসটি পছন্দ হয়েছে এবং তাকে যেন তারা সেই জিনিসটি নিজ থেকেই উপহার হিসেবে দিয়ে দেই। অনেক সময় রানীকে খুশি করার জন্য ধনী বাড়ির মালিকরা তাদের জিনিসপত্র রানীকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিতেন।
তবে প্রত্যেক বাড়িতে এরকম ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে বাড়ির মালিকরা রানী বেড়াতে আসার পূর্বেই তাদের দামী জিনিসপত্রগুলো লুকিয়ে রাখতে শুরু করেন। ভাবতে পারছেন? রানী মেরি তাদের এই কাণ্ডটি বুঝতে পেরে তাদের বাসায় বিনা দাওয়াতে হুটহাট হাজির হয়ে যেতে লাগলেন। কোনো বাড়ির মালিক যদি কোনো কিছু দিতে অস্বীকৃতি জানাতেন তবে রানী তাদের কাছ থেকে সেই জিনিসটা টাকা দিয়ে কিনে নিতে চাইতেন। কিন্তু তাতেও যদি বাড়ির মালিকেরা জিনিসটা বিক্রি করতে অসম্মতি জানাতেন তবে রানী মেরি সময় এবং সুযোগ বুঝে জিনিসটি চুরি করে আনতেন। তার এমন একটি অভ্যাস ছিল যে তিনি যাই দেখতেন তাই তার পছন্দ হয়ে যেতো। আর সেটিকে পাওয়ার জন্য তিনি চুরি করতেও দ্বিধাবোধ করতেন না।
(চলবে...)