ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ সাতরং ]

লাল পানির সমুদ্রে বেড়ে ওঠে বিশ্বের দ্রুততম মাছ, তলদেশ যেন জাহাজের ধ্বংস্তুপ

সাতরঙ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:০২, ২৬ জুলাই ২০২২
লাল পানির সমুদ্রে বেড়ে ওঠে বিশ্বের দ্রুততম মাছ, তলদেশ যেন জাহাজের ধ্বংস্তুপ
ফাইল ছবি

সাগরের পানির রং লাল। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম মাছ বাস করে। এই সাগরে প্রায়ই আগ্নেয়গিরির অব্যাহত অগ্ন্যুৎপাত হতে থাকে।  যুগে যুগে এসব আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়েছে অনেক দ্বীপ।

 সাগরের পানিতে আছে এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া ও প্রবাল প্রাচীর

যদিও এই সাগরেরর লাল রঙের পানি অল্প কিছু স্থানে দেখা যায়। তবুও একে বলা হয় লোহিত সাগর বা রেড সি। এই সাগরের নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বেশ কয়েকটি তথ্য রয়েছে। সাগরের পানিতে আছে এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া। এগুলো বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে, এক ধরণের অজৈব যৌগ গঠন করে। এর রং লাল হওয়ায় এই সাগরের রং লাল দেখায়। তাই এই সাগরের নাম লোহিত সাগর বা ‘রেড সি’।

Advertisement

বিশাল এক অঞ্চল জুড়ে কোরাল দ্বীপলোহিত সাগর ভারত মহাসাগরের একটি অংশ, যা আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশকে পৃথক করেছে। বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ বাণিজ্য এই সাগরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। প্রায়  সাড়ে চার হাজার বছর আগে থেকে মিশরীয়রা এই সাগরকে বাণিজ্য পথ হিসেবে ব্যবহার করতো। বিশাল এক অঞ্চল জুড়ে কোরাল দ্বীপের অবস্থানের কারণে এটি পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর জলাধার। 

লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত দেশগুলো হচ্ছে, ইসরাইল, জর্ডান, সৌদি আরব, ইয়েমেন, সুদান। এর দৈর্ঘ্য দুই হাজার ২৫০ কিলোমিটার। এবং প্রস্থ ৩৫৫কিলোমিটার। ৪৯০মিটার হলো এই সাগরের গড় গভীরতা।  সর্বোচ্চ গভীরতা ৩০৪০ মিটার। চার লক্ষ আট চল্লিশ হাজার বর্গকিলোমিটার হলো এই সাগরের তলদেশের আয়তন।

এখানে পাওয়া যায় বিশ্বের দ্রুততম মাছ সেলফিস

এই সাগরের চারপাশে মরুভূমি থাকায় এই সাগরের পানি খুব দ্রুত বাষ্প হয়ে যায়। এর ফলে লোহিত সাগরের পানি দিন দিন আরো লবণাক্ত হচ্ছে। লবণাক্ততার মাত্রা প্রায় ৪.১ শতাংশ। বেশিরভাগ সময় এখানকার আবহওয়া গরম থাকে। এর পরেও এখানে প্রাণী বৈচিত্র বিষ্ময়কর। এখানে প্রায় ১২শো প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে একশো ২০প্রজাতির মাছ কেবল লোহিত সাগরেই পাওয়া যায়। ১০০০টিরও বেশি অমেরুদণ্ডি প্রাণী রয়েছে এখানে। সাগরে আছে ২০০প্রজাতির নানার রঙের বৈচিত্রময় নরম ও শক্ত প্রবাল। এই সাগরে দেখা যায় বিভিন্ন প্রজাতির হাঙর। ডলফিন ও কচ্ছপও দেখা যায় এই সাগরে। প্রায় আটটি ভিন্ন প্রজাতির ডলফিন লোহিত সাগরে বাস করে। এখানে পাওয়া যায় বিশ্বের দ্রুততম মাছ সেলফিস। যা ঘণ্টায় ৬৮মাইল বেগে সাঁতার কাটতে পারে। 

অনেক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাগরের তলায়এই সাগরে হাজার হাজার আগ্নেয়দ্বীপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই সাগরে চলাচল করা বেশ কঠিন। দক্ষিণাঞ্চলে প্রবালপ্রাচীরের কারণে জাহাজগুলো প্রায়ই আটকে যায়। এছাড়া বালু ঝড় এবং অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত জলস্রোত নৌ চলাচলে অসুবিধা বাড়ায়। চলাচল কঠিন বলেই হয়তো এই সাগরে অনেক জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। এসব জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাগরের তলায়। এর মধ্যে সবচেয়ে ব্রিটিশ নৌ বাহিনীর সশস্ত্র জাহাজ (এসএসথিসলে)। যা ১৯৪১ সালে ডুবে গিয়েছিল। বর্তমানে এটি পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় ড্রাইভিং সাইট।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!