চীনকে কমিউনিস্ট সরকার ব্যবস্থায় রূপান্তরের অংশ হিসেবে ব্যক্তিপর্যায়ে ক্ষুদ্র চাষাবাদকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কৃষি বিপ্লবকে সফল করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিল এই রাজনৈতিক দল।
কিন্তু এর পরিণামে চীনে দেখা দেয়- ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। বিংশ শতাব্দীতে মানবিক বিপর্যয় ঘটে। একের পর এক ভয়াবহতা দেখা দেয়। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মাও সে তুং খুব দ্রুত চীনের কৃষি অর্থনীতিকে একটি শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রকল্প ব্যর্থ হলে, ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে চীনে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
.png)
এতে মারা যায় কমপক্ষে তিন কোটি মানুষ। সে ছিল এমনই দুর্ভিক্ষ, যার বর্ণনা শুনলে অনেকেই বিচলিত বোধ করবেন।
সে সময় লোহা এবং ইস্পাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কৃষকদের লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট ফার্নেসে ইস্পাত তৈরির কাজে। কিন্তু শিল্প এবং কৃষিখাতে উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হলো, তা বাস্তবসম্মত ছিল না।
লক্ষ্য অনুযায়ী, মবিপুল পরিমাণ খাদ্য বাস্তবে সরবরাহ করা সম্ভব হলো না। এরপর দেখা দিলো দুর্ভিক্ষ। লোকজন বেঁচে থাকার জন্য গাছের পাতা, ইঁদুর, গাছের পোকামাকড়, কুকুর - এসব খেতে শুরু করল। এমনকি সেসময় মানুষের মাংসও খেয়েছেন অনেকে।
ইয়াং জি শেইন নামে একজন চীনা সাংবাদিক সেই দুর্ভিক্ষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লিখেছেন। তার বাবাও সেই দুর্ভিক্ষের সময় মারা গিয়েছিলেন।
সেই বই লেখার জন্য ইয়াং জি শেইন পুরো চীনে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মুখে শোনা দুর্ভিক্ষের স্মৃতি সংগ্রহ করে সেই সময়কার সত্য কাহিনী লিপিবদ্ধ করেছেন এক বইয়ে।
তিনি মনে করেন, চীনের ঐ দুর্ভিক্ষে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত ৩ কোটি ৬০ লাখ লোক মারা গিয়েছিলেন। কোন কোন এলাকায় জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ইয়াং জি শেইন তার বাবার স্মৃতিতে সেই বইয়ের নাম দিয়েছিলেন 'সমাধিফলক' ।
বইটি আজও চীনে নিষিদ্ধ।