প্রতিবন্ধীর পুড়ল দুধের টাকা, বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতার কার্ড
বাচ্চার দুধ কেনার কয়েকশ টাকা ছিল, ঘড়ায় ছিল মুড়ি আর কিছু থালা-বাটি, ঘটি। কিন্তু সবই পুড়ল আগুনে। এসব হারিয়ে দুই ছেলে আর দুই মেয়ে নিয়ে দ্বারে দ্বারে চেয়ে জীবন ধারণ করা বিধবা হাসিনার কান্না যেন থামছেই না। পরিবারটির সবাই প্রতিবন্ধী। কেউ মানসিক, কেউ শারীরিক আবার কেউ বাকপ্রতিবন্ধী।
শনিবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপার ঝাউদিয়া আবাসন প্রকল্পে আগুনে পুড়েছে প্রতিবন্ধী এ পরিবারটির সব। শুধু হাসিনা নয়; ঝাউদিয়া ভূমিহীন আবাসনের ১৮ নম্বর ব্যারাকে থাকা ১০টি পরিবারের ১০টি ঘরের সবকিছুই পুড়ে গেছে।

এসব পরিবারের কেউ দিনমজুর, কেউ শ্রমিক আবার কেউ পরের বাড়িতে কাজ করেন। আগুনে তাদের চাল-ডাল, থালা-বাটি, ঘটি, কাঁথা-বালিশ, শীতের জামা-কাপড় সবই পুড়ে গেছে। সব হারিয়ে নিষ্পলক চেয়ে আছেন ১০টি পরিবারের শিশু-কিশোর আর বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা।
নিষ্পলক চেয়ে আছেন প্রায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা সালেহা বেগম। বয়স্ক ভাতার কার্ডটি পুড়ে যাওয়ায় তিনি যেন নির্বাক। তার স্বামীর নাম বদর উদ্দিন। ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঝাউদিয়া আবাসনে থাকেন সালেহা। তিন মাস পর পর ১৫০০ টাকা পেতেন, যা দিয়েই চলতো বৃদ্ধার সংসার।
এভাবে আবাসনের আসমানি, বাসেতুল মণ্ডল, সালাম শেখ, রইচ উদ্দিনসহ ১০টি পরিবারের যাপিত জীবন যেন হঠাৎ থেমে গেছে।

চুলা থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করছেন শৈলকুপা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার অমল কৃষ্ণ। তিনি বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত একটি টিম গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভূমিহীন পরিবারগুলোর আড়াই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
শৈলকুপার ইউএনও কানিজ ফাতেমা লিজা বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের চাল-ডালসহ শীতের পোশাক দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ হাজার করে টাকা দেয়া হবে।