বাইক না দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাত, পা ও মুখ বেঁধে নদীর পানিতে ডুবিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বামী আবু তাহের জান্নাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জেলার দিরাই উপজেলা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে। গ্রেফতার আবু তাহের জান্নাত দোয়ারাবাজার উপজেলার চৌধুরীপাড়া গ্রামের সাজিদ মিয়ার ছেলে।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জয়নাল আবেদীন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবু তাহের জান্নাতকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।
.png)
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বাদলারপাড় গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছোট মেয়ে মাইফুল নেছার সঙ্গে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার চৌধুরীপাড়া গ্রামের সাজিদ মিয়ার ছেলে আবু তাহের জান্নাতের প্রেম ছিল। আট মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের কিছুদিন পর আবু তাহের যৌতুক দাবি করলে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু মাসখানেক ধরে স্ত্রীর কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা চেয়ে চাপ দেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন আবু তাহের। নির্যাতন সইতে না পেরে স্ত্রী মাইফুল নেছা বাবার বাড়ি চলে যান। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিবারের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। গণ্যমান্যদের নিয়ে পারিবারিক সালিশও হয়।
আহত গৃহবধূর বড় ভাই মো. এবায়দুল্লাহ জানান, প্রেম করে আমার বোনকে বিয়ে করেছিলেন আবু তাহের জান্নাত। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী টাকার জন্য আমার বোনকে নির্যাতন করছিলেন। তার দাবির প্রেক্ষিতে ৫০ হাজার টাকা দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। মোটরসাইকেল কেনার জন্য আরও টাকা চান তিনি। কিন্তু আমরা দিতে পারিনি। আমার বোনের হাত, পা ও মুখ বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান তারা।
শনিবার (৩১ জুলাই) রাতে তাহিরপুর থানায় মামলা করা হয়। স্বামী আবু তাহের জান্নাত, শ্বশুর সাজিদ মিয়া, দেবর জাকির হোসেন ও বাবুল মিয়া এবং ননাই টেন্টারপাড়া গ্রামের জান্নাতের মামা আলী হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মাইফুল নেছা।