২২ বছর পর দেশে ফিরলেন ‘মৃত’ আমেনা
বগুড়ার আমেনা খাতুন নিখোঁজ হওয়ার ২২ বছর পর নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে নেপালের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সরকারি সহযোগিতায় বিনা খরচে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আমেনা খাতুনের নাতি আদিলুর রহমান আদিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ ২২ বছর তার খোঁজ না পাওয়ায় সন্তানদের ভোটার আইডিতে মায়ের নামের আগে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে।
আদিলুর রহমান আদিল জানান, আমেনা খাতুন প্রায় ৪০ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ১৯৯৮ সালে ছেলে ফটিক মিয়া সৌদি আরবে যান। ওইদিন তার সঙ্গে ঢাকায় যান আমেনা খাতুন। এরপর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। তখন থেকে পরিবারের সবাই ধরে নিয়েছিল হয়তো তিনি মারা গেছেন।
.png)
তিনি আরো জানান, গত রোজার ঈদের আগে জানা যায়- আমেনা খাতুন নেপালে রয়েছেন। এরপর ছবি দেখে মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন সন্তানরা। গত শুক্রবার আমেনার সন্তানদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর মাসুদ আলম। ভিডিও কলে সন্তান ও স্বজনদের চিনতে পারেন আমেনা।
আমেনার নাতি আদিল বলেন, সোমবার দুপুরে দাদিকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি আমরা।
এ বিষয়ে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর মাসুদ আলম শনিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, নেপালে ২২ বছর পর মায়ের সন্ধান পেলেন বগুড়ার আমজাদ হোসেন প্রমাণিক। ২২ বছর আগে বগুড়ার ধুনটের আমেনা খাতুন বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। তার ৩ ছেলে ১ কন্যা ধরে নিয়েছিলেন যে তাদের মা আর বেঁচে নেই। তাদের ভোটার আইডিতে মায়ের নামের পূর্বে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আমেনার বয়স এখন প্রায় ৮০ বছর। তার বড় ছেলে আমজাদ হোসেনের বয়স এখন ৬০ বছর। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ সরকারি খরচে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ বিমানে নেপাল থেকে ঢাকায় তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরো লিখেছেন, আমি নিজেও একই বিমানে ঢাকায় আসব। ৩০ মে নেপালে সুনসারি জেলার Qrc Inaruwa Sunsari এর Muk-esh Mehta তার ফেসবুকে ইনারোয়া পৌরসভার ডেপুটি মেয়র Jamuna Gautam পোখরেলের ত্বত্তাবধানে উদ্ধারকৃত একজন বাংলাদেশি নারী রয়েছে উল্লেখ করে একটি পোস্ট করেন। এতে Abhinav Chaudhary Chairman at Nepal Bangladesh youth Conclave আমাকে কমেন্টসে মেনশন করেন। অতঃপর আমি ফোনে আমিনা খাতুনের সঙ্গে কথা বলে ঠিকানা জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূতের পরামর্শে ১ জুন কাঠমুন্ডু থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে সুনরারিতে যাই। সে সময়ে নেপালব্যাপী লকডাউন এবং কোভিড আক্রান্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ইনারোয়াতে আমাকে সহায়তা করেন সুনসারি বাঙালি সমাজের সভাপতি বিপ্লব ঘোষ।
দীর্ঘ সময় আমেনা খাতুনের সাথে কথা বলে তার ঠিকানা উদ্ধার করে আমাদের বগুড়া জেলা অফিসের প্রচেষ্টায় তার ঠিকানা ও পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত হই। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে নেপাল থেকে এই বৃদ্ধ অসহায় নারীকে উদ্ধার করে পরিবারের নিকট পাঠানোর বিষয়টি বর্তমান সরকারের একটি উজ্বল দৃষ্টান্ত। আমিও সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের সেবা করতে পেরে নিজ আনন্দে তৃপ্ত। মানুষ তো মানুষেরই জন্য। আমেনা বেগমের বাকি জীবনটুকু তার পরিবারের সঙ্গে আনন্দে কাটুক এ প্রত্যাশা করি।