একসঙ্গে জন্ম: একই দিনে মারা গেল তিন ভাই-বোন
কুষ্টিয়ায় বিনা অপারেশনে একসঙ্গে জন্ম নেয়া পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে এবার দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনজনের মৃত্যু হলো। বাকি দুই সন্তানকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আকুতি জানিয়েছেন বাবা সোহেল রানা।
এর আগে, বুধবার সকালে ছেলে নবজাতক, দুপুর আড়াইটা এক মেয়ে এবং বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আরেক মেয়ে নবজাতক কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাকি দুই কন্যা সন্তানের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আশরাফুল আলম তিন নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
.png)
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গর্ভধারণের ৬ মাসের মাথায় জন্ম নেয়া শিশুদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেশে প্রথমবারের মতো নরমাল ডেলিভারিতে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন গৃহবধূ সাদিয়া খাতুন। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের কলেজপাড়ার চা বিক্রেতা সোহেল রানার স্ত্রী। সোহেল রানা একই এলাকার সামাদ আলীর ছেলে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম এ মোমেন জানান, শিশুগুলোর ওজন কম হওয়ায় চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে ঢাকায় নিতে ব্যর্থ হন শিশুদের বাবা। এ কারণে জন্মের পর থেকেই শিশুগুলোকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে শিশু ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ নবজাতকের মধ্যে তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বাকি দুইজনের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না গেলে তাদেরও প্রাণ সংশয় রয়েছে।
এদিকে, তিন সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন বাবা সোহেল রানা। বাকি দুই সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
সোহেল রানা বলেন, আমি গরিব মানুষ। বাচ্চাদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। এরই মধ্যে তিন সন্তানকে হারিয়েছি। বাকি দুইজনকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চাই।