ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সাড়ে ১৪ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মেক্সিকান তরুণী এখন জামালপুরে, করেছেন বিয়েও

জামালপুর প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৬:২৮, ২২ নভেম্বর ২০২১
সাড়ে ১৪ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মেক্সিকান তরুণী এখন জামালপুরে, করেছেন বিয়েও
জামালপুরের রবিউল হাসান রুমানের সঙ্গে মেক্সিকান তরুণী

ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম। অবশেষে সাড়ে ১৪ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে খ্রিস্টান থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করলেন মেক্সিকান এক তরুণী। তিনি এখন প্রেমিক রবিউল হাসান রুমানের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

সোমবার দুপুরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা গ্রামের ঐ বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মেক্সিকান তরুণীকে একনজর দেখার জন্য উপচে পড়া ভিড় জমিয়েছে উৎসুক জনতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্লাডিস নাইলি টরিবিও মরালেস নামে ওই তরুণীর বর্তমান নাম লাইলী আক্তার। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে রবিউল হাসান রুমানকে বিয়ে করে সুখেই আছেন তিনি। রবিউল হাসান ময়মনসিংহের রুমডো ইন্সটিটিউট অব মডার্ন টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যালে ডিপ্লোমা শেষে ফ্রিল্যান্সিং করছেন।

Advertisement

রবিউল জানান, তিনি ভালোভাবে ইংরেজিতে কথপোকথনের জন্য একজন দক্ষ বন্ধু খুঁজছিলেন। এক পর্যায়ে ২০১৯ সালে মেক্সিকোর তরুণী গ্লাডিস নাইলি টরিবিও মরালেসের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও প্রেম হয়। টানা দুই বছর প্রেম করার পর রোববার সকাল সোয়া ৮টায় বাংলাদেশে আসেন ওই তরুণী। রবিউল ও তার পরিবারের লোকজন হযরত শাহ জালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। বিমান থেকে নামার পর কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ঢাকা জজ কোর্টে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে নিজের খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণের পর রবিউলকে বিয়ে করেন। এরপর মধ্যরাতে বাড়িতে পৌঁছান।

বাংলাদেশে এসেই আগে বিয়ের কাজ সেরেছেন মেক্সিকান ঐ তরুণীমেক্সিকান ঐ তরুণী জানান, মেক্সিকোর পোএবলা শহরের ব্যবসায়ী গ্রেগ্রোরিও টরিবিওর মেয়ে তিনি। মেক্সিকোর বেনেমেরিটা অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব পোএবলা থেকে তিনি ২০১৬ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। রবিউলের সঙ্গে প্রেম হওয়ার পর পরই তিনি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু করোনাভাইরাসের জন্য বিলম্ব হয়।

তার ভাষায়, বাংলাদেশে আসতে কোনো ভয় বা সমস্যা হয়নি। শুধুমাত্র করোনার কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও ভালোবাসার মানুষের কাছে আসার আনন্দে তাও প্রভাব ফেলেনি। বাংলাদেশ দেখতে অনেক সুন্দর এবং এলাকার লোকজন অনেক মিশুক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করে লাইলী আক্তার মেক্সিকোতে ফিরে যাবেন এবং পরবর্তীতে দুই দেশের নিয়মানুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রবিউলকে মেক্সিকোতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।

পোগলদিঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামস উদ্দিন শামস বলেন, প্রেম সবকিছুর ঊর্ধ্বে। প্রেমের টানে মেক্সিকান তরুণী বাংলাদেশে এসেছেন। এতে তার প্রেম সার্থক হয়েছে। এলাকার লোকজন মেয়েটিকে দেখতে রবিউলের বাড়িতে ভিড় করছে। মেক্সিকান তরুণীকে পুত্রবধূ করায় রবিউলের পরিবারও খুশি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!