ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতনের পর গৃহবন্দি

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২৩, ২১ ডিসেম্বর ২০২১
যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতনের পর গৃহবন্দি
হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাবিনা (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশÑ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় এক গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন করে পাঁচদিন গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী দেলোয়ার হোসেন ও স্বামীর ভাই ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই গৃহবধূ নাম  সাবিনা। তিনি দর্শনা থানার গড়াইটুপি ইউপির গোবরগাড়া গ্রামের মৃত মোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে।

সাবিনার ভাই শিপন বলেন, ২০২১ সালে পারিবারিকভাবে আমার ছোটবোন সাবিনার সঙ্গে দর্শনা থানার কুন্দিপুর বেলেমাঠ গ্রামের মৃত আকরাম আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেনের বিয়ে হয়। ৭০ হাজার টাকা দেনমোহর করে তাদের কোনো দাবি-দাওয়া  ছাড়াই বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস না যেতেই আমার বোন জামাই ও তার পরিবারের লোকজন ব্যবসার জন্য  টাকা চেয়ে আমার বোনকে মারধর করতে থাকেন।  পরে বোনের সুখের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্টে করে ধার দেনা করে নগদ ১ লাখ টাকা দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, এর কিছু দিন পর স্বামী দেলোয়ার আরো টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা না দেওয়া আবারো বোনের ওপর নির্যাতন শুরু করেন। তাকে খাবার না দিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রাখেন। এ খবর শুনে আমি পুলিশ নিয়ে আমার বোনকে উদ্ধার করতে গেলে তারা জানান- বোনকে নিতে হলে একেবারে তালাক দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পরে আমারা ফিরে আসি। এর কয়েকদিন পর তারা আমাকে খবর দিলে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বোনকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। 

Advertisement

গৃহবধূ সাবিনা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী দেলোয়ার যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। আমি টাকা আনতে না পারায় আমার স্বামী ও তার ভাই ওসমান, লুকমান ও তাদের স্ত্রী শারমিন ও মিলি সবাই  মিলে মারধর করেন। খাবার না দিয়ে ঘরের মধ্যে পাঁচদিন  আটকে রাখেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি ও আমার ভাই ভাবিরা কখনোই আমার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করিনি। যৌতুকের কোনো  টাকাও চাইনি এবং তারাও কোনো টাকা দেননি। আমার স্ত্রী প্রায়ই আমার কথার  অবাধ্য হয়ে  তার বাবার বাড়িতে চলে যেত। আমি নিষেধ করলে সে গলাই দড়ি দেওয়ার হুমকি দিত। এবারও তার বাবার বাড়িতে যেতে মানা করা সত্ত্বেও যখন সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল তখন তাকে আমি একটা চড় মেরেছি। তাছাড়া আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুক নেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, সাবিনার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন।

দর্শনা থানার ওসি লুৎফর কবির বলেন, যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে নির্যাতন করেছে, এমন কোনো অভিযোগ থানায় এখন পর্যন্ত কেউ করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!