ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘চিপাচাপায় ধর্ষণের পর নেয় হোটেলে, চিৎকার করেও রেহাই পাইনি’

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২৮, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১
‘চিপাচাপায় ধর্ষণের পর নেয় হোটেলে, চিৎকার করেও রেহাই পাইনি’
ইনসেটে ভুক্তভোগী গৃহবধূ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনা এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। এরই মধ্যে এ ঘটনায় হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আটক হয়েছেন হোটেল ম্যানেজার। তৎপর রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।

স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে তিন যুবক মিলে ধর্ষণ করে। গৃহবধূকে ছুরির ভয় দেখিয়ে টেনে অটোরিকশায় তোলার সময় চিৎকার করেন। দুবার চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। এরপর মুখ বেঁধে ফেলে সেই তিন যুবক।

আরো পড়ুন: সমুদ্র সৈকতে স্বামীর সঙ্গে এক ধাক্কা, তুলে নিয়ে স্ত্রীকে দুবার গণধর্ষণ

Advertisement

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘হাতে-পায়ে ধরে আমার স্বামী মাফ চাইছে। কারণ আমার স্বামী অতটা চালাক চতুর না সরল-সোজা মানুষ। আমার স্বামী কইছে ভাই আমরা অন্য জাইগা থিকা আইছি আমারে মাফ কইরা দেন। এর পাঁচ মিনিট পর একটি সিএনজি নিয়া আইসা তারা আমারে টাইনা উঠায়ে ফেলাইছে। তখন বাস থিকা অনেকগুলা লোক নামছে। দুবার চিৎকার করছি। করার সময় একজন মুখ ধরছে আরেকজন হাত ধরছে, এরপর মুখ বাইন্ধা ফেলছে। পরে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়া চিপাচাপার মধ্য নিয়া গিয়ে তিনজন আমারে রেপ করছে’।

এরপর তাকে নেয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে। সেখানে ইয়াবা সেবনের পর আরেক দফা তাকে ধর্ষণ করে ওই তিন যুবক। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে জানিয়ে বাইরে থেকে কক্ষ বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।

আরো পড়ুন: সৈকতে ধর্ষণের পর ইয়াবা সেবন করেই হিংস্র হয়ে ওঠে সেই তিনজন

ওই নারী আরো জানান, জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তা কক্ষের দরজা খোলেন তিনি। এরপর ৯৯৯-এ ফোন দেন। তাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। এরপর পাশের একজনের সহযোগিতায় র‌্যাবকে কল দেন। তারা এসে তাকে উদ্ধার করে। পর্যটন গলফ মাঠের এলাকা থেকে তার স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করে র‌্যাব।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। যেহেতু ঘটনাটি স্পর্শকাতর তাই যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে র‌্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও থানা পুলিশ।

বুধবার রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন থেকে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান।

আরো পড়ুন: সমুদ্র সৈকতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুজন শনাক্ত

ভুক্তভোগী নারী জানান, বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে আসেন তিনি। তারা শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে ওঠেন। সেখান থেকে বিকেলে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে যান। লাবনী পয়েন্টে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে দুজনের কথা কাটাকাটি হয়।

এরই জেরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি অটোরিকশায় তাকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তিনজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!