খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুমতি না নিয়েই ইঞ্জিন বদলেছেন লঞ্চের মালিক। আগে এ লঞ্চে ৫৫০ হর্স পাওয়ারের দুটি ইঞ্জিন থাকলেও তা পাল্টে ৭২০ হর্স পাওয়ারের দুটি ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে। যেহেতু নতুন ইঞ্জিন লাগানোর পর শুক্রবার দ্বিতীয় যাত্রা করে লঞ্চটি, এ কারণে এটিকে ‘ট্রায়াল ট্রিপ’ বা পরীক্ষামূলক যাত্রা বলা যায়।
রোববার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আগুন লাগলে কীভাবে নির্বাপন করা হবে- সে বিষয়ে লঞ্চের কর্মীদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও তা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে- সেটিও জানে না লঞ্চের কর্মীরা। ফলে চলন্ত অবস্থায় লঞ্চে আগুন লাগলে যাত্রীদের পানিতে ঝাঁপ দেওয়া ছাড়া কোমো উপায় নেই।
.png)
তিনি আরো বলেন, লঞ্চ ডুবে গেলে যাত্রীরা কীভাবে জীবন রক্ষাকারী বয়া (পানিতে ভেসে থাকার সরঞ্জাম) ব্যবহার করবেন, সে সম্পর্কেও ভালোভাবে জানে না লঞ্চের কর্মীরা। এছাড়া বেশিরভাগ লঞ্চে বয়া এত শক্ত করে বাঁধা থাকে যে- এগুলো প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করার মতো অবস্থা থাকে না।

বিআইডব্লিউটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, সদরঘাট থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে ২২১টির মতো লঞ্চ চলাচলের অনুমতি রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮৫টি লঞ্চ ঢাকা থেকে ছাড়ে। সদরঘাট টার্মিনালে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মচারীদের জন্য অগ্নিনির্বাপন মহড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে গত দুই বছরে শুধুমাত্র ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলা এমভি মানামী লঞ্চে একবার অগ্নিনির্বাপন মহড়া করা হয়েছে।
ঢাকার শ্যামপুরে বিআইডব্লিউটিএ-এর ঘাটে অবস্থিত ‘রিভার ফায়ার স্টেশন’–এর কর্মকর্তা মালেক মোল্লা বলেন, লঞ্চ মালিকরা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালালেও কর্মীদের জন্য কোনো মহড়া বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন না। এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের ইঞ্জিনরুমের সঙ্গেই ছিল রান্নাঘর। নিয়ম না মেনে সেখানে রান্নাঘর স্থাপন করা হয়।
নৌ আদালতের প্রসিকিউটিং অফিসার মুন্সী মো. বেল্লাল হোসাইন বলেন, এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার রাতে ঝালকাঠি সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছেন পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দিয়াকুল গ্রামের গ্রামপুলিশ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন। আইন অনুযায়ী নৌ-দুর্ঘটনা বিষয়ক সব মামলা নৌ আদালতে দায়ের হতে হবে। নৌ আদালতে মামলার বাদী হবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক। রোববার দুপুর পর্যন্ত নৌ আদালতে কোনো মামলা হয়নি।