দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানান অসুস্থতায় ভুগছিলেন তার স্ত্রী হনুফা বেগম। তাই স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মেয়ে রুবি আক্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন রাজ্জাক।
দশদিন ঢাকায় থেকে স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান ১০ লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি।
.png)
গভীর রাতে সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর মা মেয়েকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বরিশাল চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। তবে কোথাও স্বজনরা আ. রাজ্জাককে খুঁজে পাচ্ছিল না। পরে বিকেলে উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে থেকে আ. রাজ্জাকের মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনরা।
হনুফা বেগমের বোনের ছেলে শফিকুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালা অসুস্থ ছিল। তাই চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যান খালু ও খালাতো বোন। ঢাকায় থেকে ১০ দিন পর চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার তিনজনই বরগুনাগামী লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সব শেষ।
তিনি আরো বলেন, অগ্নিকাণ্ডে খালার দুই হাত ও পা আর বোনের শরীরের প্রায় অংশই পুড়ে গেছে। তারা এখনো চিকিৎসাধীন। আর খালু চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার লাশ শনাক্ত করে দাফন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত খালা ও বোনকে খালুর মৃত্যুর খবর বলিনি।
আ. রাজ্জাকের স্ত্রী হনুফা বেগম স্বজনদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ লঞ্চে ধোঁয়া আর আগুন দেখে ছুটাছুটি শুরু করে যাত্রীরা। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। বাঁচার জন্য মানুষের চিৎকার, কান্নাকাটিতে একাকার। আমরাও ছুটছি কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের শরীরেও আগুন আগে। আমার স্বামী আমাকে ও মেয়েকে লঞ্চের সামনের দিকে ঠেলে দেয়। এরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমরা মা মেয়ে হাসপাতালে। কিন্তু কোথাও আমার স্বামী নেই।