নিখোঁজ ফজিলা আক্তার পপি পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে। দুর্ঘটনার পর এমভি অভিযান-১০ লঞ্চসহ ঝালকাঠি ও বরগুনা সদর হাসপাতালে এবং বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাননি স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার রাতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ঢাকা থেকে পাথরঘাটায় রওনা হন পপি। একমাত্র মেয়ে লামিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে নিজ কর্মস্থল ঢাকার সাভারে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য নিতে আসছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পূরণ হলো না পপির ইচ্ছে।
.png)
পপির বৃদ্ধ বাবা আফজাল হোসেন বলেন, একমাত্র মাইয়াডারে হারাইলাম। এহন ক্যামনে থাকমু। জামাই মাইয়াডারে ৭ বছর আগে তালাক দিয়া যায়। জীবন বাঁচাইতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতো। মাইয়াডার লাশটা পাইলেও কবরডা দেখতাম।
পপির একমাত্র মেয়ে লামিয়া বলে, মায় কইছিল, বাড়িতে আইয়া মোরে ঢাকায় নিয়া ভালো একটা স্কুলে ভর্তি করাইবে। এহনো মায় আয় নাই। হুনছি যে লঞ্চে আগুন লাগছে হেই লঞ্চেই মোর মায় আছিল। এহন মোরে মা কইয়া কেডা বোলাইবে। মোর মায় কি আইবে?
গত শুক্রবার রাতে ঝালকাঠি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরগুনার ৩৩ জন যাত্রীর লাশ গ্রহণ করে বরগুনা জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বরগুনার পাথরঘাটায় ৪ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে। পপিসহ এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে থাকাকালীন ইঞ্জিনরুম থেকে পুরো লঞ্চে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ঐ দুর্ঘটনায় ৪৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কমপক্ষে শতাধিক যাত্রী। এছাড়া অনেকেই জ্বলন্ত লঞ্চ থেকে ঝাঁপিয়ে নদী সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। তবে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী এখনো প্রায় অর্ধশত যাত্রীর খোঁজ নেই। পাথরঘাটার পপির নাম রয়েছে নিখোঁজদের সেই তালিকায়।