ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামে মাদক মামলায় তিনজনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩৩, ১২ জানুয়ারি ২০২২
চট্টগ্রামে মাদক মামলায় তিনজনের কারাদণ্ড
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার মাদক মামলায় তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকার আবু সামার ছেলে মিজানুর রহমান, একই এলাকার নবী হোসেনের বাড়ির সুলতান আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার চমকখোলা এলাকার মোহাম্মদ কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ কাউসার।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বলেন, মাদক মামলায় মিজানুর রহমান ও গিয়াস উদ্দিনের আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। একই অপরাধে মোহাম্মদ কাউসারের পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিন আসামি জামিনে বের হয়ে পলাতক রয়েছেন।

Advertisement

আরো পড়ুন >>> বিলুপ্ত মৌসুমেও ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে বড় ইলিশ

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ মে স্টেশন রোডের রিয়াজউদ্দিন বাজারের ঢাকা আবাসিক হোটেলের সামনে থেকে ১০ হাজার ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম মেট্রোর কোতোয়ালি সার্কেলের এসআই শাকিলা রহমান কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। গত বছরের ২১ মার্চ ওই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটিতে মোট সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

এর আগে, সোমবার চট্টগ্রামে স্ত্রী হত্যার দায়ে আলেক শাহ নামে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলেক শাহ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চিতুলিয়া এলাকার শন্তু মিয়ার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে নগরীর ইপিজেড থানার ওয়াসা গলি আম্বিয়া ভবনে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী আশা মনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আলেক শাহ। পরে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন হিসেবে আলেক শাহকে আটক করা হয়। 

আরো পড়ুন >>> নানির সঙ্গে বাড়ি ফেরা হলো না ৪ বছরের আলমিনার

ওই ঘটনায় একইদিন নিহতের মা ইপিজেড থানায় মামলা করেন। পরে ৬ ডিসেম্বর আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। মামলাটিতে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

এর আগেও ৮ নভেম্বর একই অপরাধে রিন্টু বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অশোক কুমার দত্তের আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

দণ্ডপ্রাপ্ত রিন্টু বড়ুয়া রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী এলাকার ডা. কমল কান্তি বড়ুয়ার ছেলে। তার স্ত্রী রুমি বড়ুয়া শিক্ষিকা ছিলেন।

জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রিন্টু ও রুমির বিয়ে হয়। শুরুতে তাদের দাম্পত্য জীবন বেশ ভালোভাবে কাটতে থাকলেও ধীরে ধীরে শুরু হয় ঝগড়া-বিবাদ। বিভিন্ন অজুহাতে রুমিকে মারধর করতেন রিন্টু। একপর্যায়ে করেন হত্যার পরিকল্পনাও।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিকে ছাদে নিয়ে যান রিন্টু। সেখানে অ্যান্টিকাটার দিয়ে রুমির ঘাড়ে একাধিকবার আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

পরদিন ১৪ আগস্ট রুমির ভাই মনোজ কান্তি বড়ুয়া রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় ১৭ আগস্ট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রিন্টু। মামলাটিতে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!