ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:০৩, ১৫ জানুয়ারি ২০২২
পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ
রোকসানা আক্তার সাদিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বামীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় রোকসানা আক্তার সাদিয়া (২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

শুক্রবার ভোরে উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের গৈয়ারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের মাখল শেখ ভিটা গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে রোকসানা আক্তার সাদিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গৈয়ারপাড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলীর ছেলে রাসেল মিয়ার (৩৩) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রাসেল ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য সাদিয়াকে শারীরিক, মানসিক নিযাতন করে চাপ দিয়ে নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার যৌতুক আদায় করে রাসেল মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। আরো চার লাখ টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে তারা। না পেয়ে গত ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের ১৮ তারিখে সাদিয়াকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে পিতার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় রাসেল মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। পরে সালিশ করে আর মারধর করবে না, যৌতুক দাবী করবে না শর্তে সাদিয়াকে শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়।

Advertisement

        আরো পড়ুন: জানালায় উঁকি দিয়ে নানির চিৎকার, দরজা ভেঙে মিতুর লাশ পেল পুলিশ

সম্প্রতি আবারো চার লাখ টাকা যৌতুকের জন্য সাদিয়ার উপর চড়াও হয় রাসেলের পরিবারের লোকজন। গত দুই মাস আগে সাদিয়ার পিতা মোফাজ্জল হোসেন মারা যান। এ অবস্থায় সাদিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আর যৌতুক দিতে অপরাগতা করে। এর মধ্যেও রাসেল নিজ গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ার পর থেকে রাসেল প্রতিদিনই স্ত্রী সাদিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। শুক্রবার ভোরের দিকে সাদিয়াকে তার স্বামী রাসেল মিয়া ও পরিবারের লোকজন মারধর করে ও গলা টিপে ধরে। এতে সে মারাত্মক ভাবে আহত হলে সাদিয়ার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পরে সাদিয়ার লাশ বাড়িতে রেখে স্বামী ও বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। 

স্থানীয় লোকজন ৯৯৯ নম্বরে খবর দিলে পাগলা থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

নিহতের মা আয়মননেছা (৫০) বলেন, ১০ লাখ টেহা যৌতুক দিছি। আরো চাইর লাখ টেহার লাইগ্যা আমার মায়াডারে রাসেল সব সময় মারতো। আমি বিচার চাই। যৌতুকের লাইগ্যা আর যেন কোনো মার বুক খালি না অয়। আল্লাগো তুমি বিচার করো।

পাগলা থানার ওসি রাশেদুজ্জামান জানায়, সুরতহাল রিপোট অনুযায়ী লাশের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!