ডেইলি বাংলাদেশের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে এসব কথা বলছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ বৃদ্ধ ওয়াজেদ আলী।
শুধু ওয়াজেদ আলীই নন। তার কথায় সায় দেন দফাদার আব্দুস সোবাহান, সৈয়দ আলী, আব্দুল মতিন, নান্না তালুকদার, নুরুল ইসলাম, জয়নাল, আব্দুল মান্নান, চাঁন মিয়া ও নেপাল।
.png)
তারা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে দফাদার ও চৌকিদার নামে পরিচিত হলেও তারা গ্রামীণ ট্যাক্স কালেকশন, জন্ম-মৃত্যুর তালিকা প্রণয়ন, ভিজিভি-ভিজিএফ বণ্টন, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা বিষয়ক অনুসন্ধান ও তালিকা প্রণয়ন, ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ জারি, পুলিশের সঙ্গে আসামি ধরার কাজ, নির্বাচনী ডিউটি পালন করেন।
এছাড়া যেকোনো সরকারি অনুষ্ঠানের চিঠি বিলি, রাতে পাহারা দেওয়া, নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা শান্ত রাখা, এলাকার অপরাধ সাধ্যমতো নিয়ন্ত্রণে রাখা, চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন, থানার অর্পিত দায়িত্ব পালন, রুটিন অনুযায়ী পরিষদের পাহারার দায়িত্ব পালন ও নিয়মিত থানায় হাজিরা দেওয়াসহ ৭০ ধরনের কাজ করেন।
ত্কোরা আরো জানান, নো ছুটিছাটা নেই, কিন্তু বেতন মাত্র সাড়ে ৬ হাজার টাকা। বেতনের অর্ধেক সরকারি কোষাগার (রাজস্ব) ও বাকি অর্ধেক ইউনিয়ন পরিষদ দেয়। রাজস্ব অর্ধেক আবার প্রায় এক বছর ধরে বাকি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাত-দিন দায়িত্ব পালনকারী এসব গ্রাম পুলিশ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার গ্রাম পুলিশরা নিয়মিত সব ধরনের বেতন-ভাতা পেলেও ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৯৮ জন ১২ মাস ধরে ও নলছিটি উপজেলার ৯৬ জন গ্রাম পুলিশ ৭ মাস ধরে স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় পরিবার নিয়ে নিদারুণ অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
সদর উপজেলার কয়েকজন গ্রাম পুলিশ জানান, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৮ জন গ্রাম পুলিশের ৫২ লাখ ৬৩ হাজার ২০০ টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক দফাদারের মাসিক ৪ হাজার ৭০০ টাকা, প্রত্যেক চৌকিদারের মাসিক ৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
নলছিটি উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, নলছিটির ৯৬ জন গ্রাম পুলিশের ২০২১ সালের ৭ মাসের বেতন-ভাতা বাবদ ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫০ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যেক দফাদারের মাসিক ৪ হাজার ৭০০ টাকা, প্রত্যেক চৌকিদারের মাসিক ৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
ঝালকাঠি সদরের ইউএনও সাবেকুন্নাহার জানান, গত বছর করোনার কারণে স্থানীয় রাজস্ব আয় কম হওয়ায় গ্রাম পুলিশের কিছু পাওয়া বকেয়া হয়েছে। এ সমস্যার সমাধানে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিক। শিগগিরই তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।