দেশ ছাড়ার আগের দিন ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন ইকবাল। নমুনা দিয়ে ঘরে ফিরতেই সন্ধ্যায় বেজে ওঠে ইকবালের মোবাইল ফোন। রিসিভ করতেই অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে শেভরণের চিকিৎসক পরিচয় দেন। একই সঙ্গে জানান- ইকবাল ‘করোনা পজিটিভ’। তবে চিন্তার কারণ নেই, মুহূর্তেই পাল্টে দেওয়া যাবে সেই রিপোর্ট- এমন আশ্বাসে ১৫ মিনিটের মধ্যেই বিকাশে পাঠাতে বলেন আট হাজার টাকা।
অচেনা ব্যক্তির এমন প্রস্তাবে শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান ইকবাল। কিন্তু একদিন পরই ফ্লাইট, ফিরতে হবে কর্মস্থলে- এ ভাবনাও তাড়া করছিল তাকে। ফলে শেষে আর কিছু না ভেবে সেই ব্যক্তির দেওয়া নম্বরটিতে পাঠিয়ে দেন সমপরিমাণ টাকা। পরে হাতে পান ‘করোনা নেগেটিভ’ রিপোর্ট। চলে যান প্রবাসে।
.png)
ডেইলি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় এভাবেই পুরো ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন প্রবাসী ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, একদিন পরই ফ্লাইট। আমি তখন অনেকটা ঝামেলার মধ্যে ছিলাম। বুঝে উঠতে পারছিলাম না- কি করবো। ০১৭৪১-২৭৬০৫৮ নম্বর থেকে ফোনটি আসে। ওই ব্যক্তি নিজেকে শেভরণের ডাক্তার ইমরান পরিচয় দেন। ফোন করা নম্বরটিতে বিকাশ আছে জানিয়ে সেটিতেই টাকা পাঠাতে বলেন। আমি শুরুতে টাকা পাঠাতে চাইনি। পরে ভাবলাম- ল্যাব সংশ্লিষ্ট কেউ না হলে আমার নম্বর কিংবা পরিচয় তো জানার কথা না। পরে আরো দুই দফায় ঢাকা বিমানবন্দর ও দুবাই বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষায় আমার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

তবে শুধু ইকবালই নন, একই অভিযোগ করেছেন সাইফুল ইসলাম নামে আরেকজন। তিনি বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি আগ্রাবাদের শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন আমার বড় ভাই। পরে বিকেল ৩টার দিকে একটি ফোনকল আসে। এতে জানানো হয়- আমার ভাইয়ের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সেটি নেগেটিভ করতে হবে বিকাশে ১৫ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। উপায় না পেয়ে একপর্যায়ে আমরা টাকা পাঠাই। কিন্তু পরবর্তীতে ঢাকা ও দুবাই বিমানবন্দরে আরো দুইবার করোনা পরীক্ষায় আমার ভাইয়ের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
যে প্রতিষ্ঠানে নমুনা দিয়ে বারবার প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলছেন প্রবাসীরা, বিষয়টি নিয়ে জানতে সেই প্রতিষ্ঠান শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
তবে এমন ঘটনার সঙ্গে তাদের কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির ল্যাব ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের এখান থেকে কেউ ফোন করেনি। এটি একটি প্রতারক চক্র। পরীক্ষা শেষে ডাটাগুলো আমরা যে সার্ভারে সংরক্ষণ করি, সেখানে বিদেশযাত্রীর করোনা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ল্যাব-হাসপাতালগুলোও প্রবেশ করতে পারে।
অন্যদিকে, এ ল্যাব ইনচার্জের এমন মন্তব্যে হতবাক হয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনও। সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন বলেন, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। একজন ব্যক্তির নাম-পরিচয় না জেনে কীভাবে এটি করা সম্ভব? যিনি ফোন করেছেন, তিনি অবশ্যই সবকিছু জেনেশুনে করেছেন। তবে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।