ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জনপ্রিয় পাহাড়ি কলা’য় বছরে আয় ৪৫০ কোটি

মো. নুরুল আমিন, রাঙামাটি
প্রকাশিত: ১১:০৪, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
জনপ্রিয় পাহাড়ি কলা’য় বছরে আয় ৪৫০ কোটি
রাঙামাটির জনপ্রিয় ‘পাহাড়ি কলা’ যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে

রাঙামাটিতে সারি সারি ন্যাড়া পাহাড়ের ঢালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতের কলা চাষ করছেন স্থানীয় চাষিরা। পাহাড়ি জমির মাটি ও জলবায়ু অনুকূলে থাকায় ধীরে ধীরে কলাবাগান গড়ে উঠেছে। এই স্বাদের কারণে জনপ্রিয় এই ‘পাহাড়ি কলা’ যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। এ থেকেই বছরে আয় হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ কোটি টাকা।

স্থানীয় কলাচাষিরা জানান, চাঁপা, বাংলা, সাগর, সূর্যমুখী জাতীয় দেশি কলার প্রচুর ফলন হয় পাহাড়ের জমিতে। তবে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় তারা বেশি পরিমাণে আবাদ করতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কলা চাষে আয় বৃদ্ধি পাবে। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিতে খুলবে অর্থনীতি নতুন দ্বার, আসবে অভাবনীয় সাফল্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকভাবে কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। দেশীয় উন্নত জাতের কলা চাষ করে আশাতীত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। নৌকা ভর্তি কলা নিয়ে জেলার প্রতিটি বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। প্রতি হাটের দিন ভিড় আরো বাড়ে। দাম হাতের নাগালে থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ট্রাকভর্তি করে বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করছেন। রাঙামাটিতে হিমাগার না থাকায় স্বল্পমূল্যে এসব কলা বিক্রি করতে হয়। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

Advertisement

চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান মন্টু বলেন, রাঙামাটির বাংলা ও চাম্পা কলা সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। চট্টগ্রামে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। তাই প্রতি মাসে ৩-৪ ট্রাক কলা নিয়ে যাই। শীতকালে ব্যবসা একটু লোকসানে চলছে। তবে গরম কালে কলার চাহিদা বেশি থাকে। ঐ সময় ভালো লাভ করা যায়।

স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এ পাহাড়ি কলার দাম হাতের নাগালেই

বনরূপা এলাকার সমতা ঘাটে কলা বিক্রি করতে আসা চাষী রবি মোহন চাকমা ও রিতিশ চাকমা বলেন, পাহাড়ে উৎপাদিত কলা বাজারে আনা কষ্টসাধ্য এবং খরচও বেশি। করোনার পর থেকে আগের বছরগুলোর মতো ভালো দাম পাচ্ছি না। জেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় কলা স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে দিতে হয়। এতে ন্যায্য দাম পাই না।

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি জেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৮২৩ মেট্রিক টন। ওজন বিবেচনায় উৎপাদিত কলা প্রতি কাঁধি ১৫০ টাকা করে বিক্রি হয়।

জেলা কৃষি বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া জানান, রাঙামাটি জেলায় ৫০ ভাগ বাংলা কলা এবং ৫০ ভাগ চাঁপা কলা বিক্রি হয়। যে বছর উৎপাদন সঠিক থাকে ঐ বছর ৩৫০-৪৫০ কোটি টাকার কলা বেচাকেনা হয়।

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তপন কুমার পাল জানান, কলা চাষিদের অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন পরামর্শ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া পাহাড়ে উচ্চফলনশীল জাতের ফলের আবাদ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাঙামাটিতে বিভিন্ন মৌসুমে কলা, আনারস, কাঁঠাল, আমসহ নানা ফলের ভালো উৎপাদন হয়। এসব ফলমূল সংরক্ষণে জেলায় একটি হিমাগার নির্মাণ করলে চাষিরা ন্যায্য দাম পাবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!